বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের দুই হাজার ২৭৬ জন নেতাকর্মীর গুম-হত্যার তদন্ত চেয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ জমা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং মামলা ও তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন খান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে দমন-পীড়নের শিকার করা হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বিএনপি নেতাকর্মীদের অপহরণ করে গুম, নির্যাতন ও দীর্ঘদিন আটক রেখে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়। ওই সময়কালে শুধু ক্রসফায়ারের নামেই ২২৭৬ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে ১৭৭৬ জন ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে ২৪৩ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় একাধিকবার লিখিত তাগিদ দেওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আবেদনে দলটি দাবি করে, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরুর অনুরোধ জানানো হয়।
প্রথম দফায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা গুমের অভিযোগে গত বছরে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, গত ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ও কিছু অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অপহরণ করে গুম ও হত্যা করে। এখন পর্যন্ত অনেককেই গুম করে রাখা হয়েছে। বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ১৫৩ জনকে গুম করে হত্যা ও অপহরণ পূর্বক গুম করে রাখা হয়েছে। এ গুম-সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও তদন্ত করে মামলা গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হলো।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন