× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০১:২৯ এএম

বেড়ায় খাচ্ছে খেত

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০১:২৯ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকার প্রাণ বলে খ্যাত বুড়িগঙ্গা নগরায়নের তীব্র নেতিবাচকতায় তার রূপ হারিয়েছে বহু আগেই। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ থেকে উত্তরে যতদূর চোখ যায় বুড়িগঙ্গায় দেখা মেলে শুধু অবৈধ স্থাপনার। নানা সময় পত্রিকার পাতায় খবর আসে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বুড়িগঙ্গার বুকে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছাপড়া থেকে শুরু করে সাততলা ভবন পর্যন্ত উচ্ছেদের ইতিহাস রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর। নদী রক্ষায় নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটিই এবার অবৈধভাবে নির্মাণ করছে স্থায়ী স্থাপনা। নদীর প্রায় সোয়া একর জায়গায় বাউন্ডারি দিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে মালামাল ওঠানো-নামানোর ঘাট তৈরির কাজ। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে বন্দর কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এই স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে কিন্তু এতে করে বুড়িগঙ্গার বুকে এ নির্মাণ প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু তাই নয়, রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায় থাকে তখন এটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও দাবি করছেন তারা।

রিভারাইন পিপলের এক গবেষণা মতে, বুড়িগঙ্গা নদীর সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য ৪১ কিলোমিটার। ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার ওয়াশপুর থেকে হযরতপুর পর্যন্ত এরই মধ্যে ১৬ কিলোমিটার ভরাট, দখল ও প্রবাহশূন্যতার শিকার হয়ে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি ২৫ কিলোমিটার প্রবহমান রয়েছে। এবার এই দখলের তালিকায় যোগ হয়েছে খোদ বিআইডব্লিউটিএ। নদী-সংলগ্ন সূত্রাপুর মৌজার পোস্তগোলা সেনাবাহিনী ব্যারাকের পশ্চিম পাশঘেঁষা বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় নদীর বুকের ১.২১ জায়গায় সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) তৈরি করে ভিতরে ভারী স্থাপনা নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি রূপালী বাংলাদেশের হাতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে কোতোয়ালি রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার আশরাফের দেওয়া এক চিঠি আসে। ওই চিঠিতে জানা যায়, কোতোয়ালি রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন সূত্রাপুর মৌজার সিটি ২০০০১ ও ২০০০২ নম্বর দাগের দক্ষিণ পাাশের বুড়িগঙ্গা নদীর কিছু অংশ দখল করে স্থাপনা-সংক্রান্ত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হলে সার্ভেয়ার তা দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় উপরিরোক্ত ২ দাগের দক্ষিণ পাশে বুড়িগঙ্গা নদীর ১.২১ একর কম/বেশি জমি দখল করে মাটি ভরাট করে চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ভেতরে ভারী স্থাপনা নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।

নির্মাণ কাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা দাবি করেন, ভরাটকৃত স্থানটিতে নদী থেকে মালামাল ওঠা-নামার জন্য ঘাট নির্মাণ করবে বিআইডব্লিউটিএ। তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হলে আলোচ্য তপশিলভুক্ত জমিতে নদী ভরাট করে স্থাপনাঘাট নির্মাণ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে সেখানে একই সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। যেটাতে লেখা রয়েছে ‘প্রকল্পের নাম : বাংলাদেশ আঞ্চলিক নৌপরিবহন প্রকল্প-১ (বিআরডব্লিউটিপি ১), বাস্তবায়নকারী সংস্থা : বিআইডব্লিউটিএ।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী কোতোয়ালি রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার আশরাফ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ অনুযায়ী প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না বা এই জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি এমন কাজের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তরও করা যাবে না। আমাদের তদন্তে বিআইডব্লিউটিএর মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজের প্রমাণ মিলেছে। তাই আমরা ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ¯্রােতস্বিনী বুড়িগঙ্গা দখলের কবলে দিন দিন শীর্ণকায় খালে। বিশেষ করে টার্মিনাল থেকে একটু সামনে এগুলেই কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে নদীর যে অংশটি উত্তরে গাবতলী পর্যন্ত বিস্তৃত, তার দুই পাশে নানামুখী দখল চোখে তীব্রভাবে ফুটে ওঠে। দখলদাররা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে নদীর দুই পাড়, এমনকি নদীর উপরও গড়ে তুলেছে শিল্প-কারখানা, বাড়ি, দোকানপাট, রাজনৈতিক দলের অফিস, পুলিশ ক্যাম্প, ফলের আড়ত, কাঁচাবাজার ও বালুমহালসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা। এসব অবৈধ স্থাপনার ফলে দখলের পাশাপাশি ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়ছে কোনোমতে টিকে থাকা নদীটুকুও। একসময় যে নদীকে ঘিরে চলত রাজধানীর ব্যাবসায়িক কর্মকা-, এখন সেটি কোথাও কোথাও রূপ নিয়েছে মজা পুকুরে। যে নদীতে জেলেরা নৌকা বেয়ে মাছ ধরতেন, চলত পালতোলা নৌকা; এখন তার পানিতে দুর্গন্ধ। স্রোত নেই। পানিতে ভাসছে পচা আবর্জনা। ব্যবহার তো দূরে থাক, সে পানিতে হাত দিতেও সাহস পান না স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত ৫০ বছর ধরে বুড়িগঙ্গা তিলে তিলে দখলের কবলে পড়ে একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। এ নদীর জায়গা দখল করে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা। মাঝেমধ্যে বিআইডব্লিটিএ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালালেও পরে আবার গড়ে ওঠে সেসব স্থাপনা। এখন সেই বিআইডব্লিটিএ-ই দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে।

সংস্থাটির এটিই প্রথম দখল না দাবি করে বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা নিয়াজ আহমেদ লাবু বলেন, আমার বাপ-দাদার মূল বাড়িটি ছিল নদীর তীরে। এখন দখল হতে হতে সে নদী সরে গেছে প্রায় আধা মাইল দূরে। কামরাঙ্গীরচর থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত নদীর একটি শাখা ছিল। বলতে গেলে সেটি পুরোটাই দখল হয়ে গেছে। বারবার উচ্ছেদ অভিযানের পরও দখলদাররা পিছু হটছে না। নদী দখল করে বিআইডব্লিউটিএ-ই একটি মার্কেট নির্মাণ করেছে। এবাার ঘাট বানানোর নামে আবারও বুড়িগঙ্গা দখলের কাজ চালাচ্ছে। রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে যায় তা হলে নদী আর নদী থাকে বলেন?

একই প্রশ্ন নদী-সংলগ্ন রাজধানীর পশ্চিমের বুড়িগঙ্গার বিশাল এলাকা দখল হয়ে গেছে দাবি করে মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হাজি এনায়েত উল্লাহ বলেন, বেওয়ারিশ লাশের মতো পড়ে থাকা নদীর বুক বালু দিয়ে ভরাট করে রাতারাতি দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রাজধানীর পশ্চিমের বুড়িগঙ্গার বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। এবার বিআইডব্লিউটিএ-ও এই তালিকায় এসেছে; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভরাটের মধ্যে পড়েছে পুরান ঢাকার লালবাগের সোয়ারীঘাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে কামরাঙ্গীরচরের মূল প্রবেশদ্বার হাক্কুল এবাদ ব্রিজ থেকে শুরু করে বড়গ্রাম, কুড়ারঘাট, সূত্রাপুর, পূর্ব রসূলপুর, পশ্চিম রসুলপুর এলাকার কোল ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদী পর্যন্ত। এই শাখার মধ্যে বেশি দখল হয়েছে লালবাগ, নওয়াবগঞ্জ বড় মসজিদ ঘাট, বেড়িবাঁধ বাজার, হাজারীবাগের ট্যানারি, রায়েরবাজার, বসিলা ও কাটাসুর এলাকায়। দখল হয়ে গেছে সদরঘাট ও শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর অধিকাংশ এলাকাও। গড়ে উঠেছে ফল ও সবজির পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ফল ও সবজি সড়কে ফেলার কারণে বাঁধ এলাকার গলিগুলো নোংরা হয়ে আছে। এসব দোকান থেকে পণ্য নেওয়ার জন্য ট্রাক-ভ্যানের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে দিনের অধিকাংশ সময় লেগে থাকে যানজট। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর বুড়িগঙ্গার শাখা নদীটির প্রবেশমুখ নদীর সংযোগ থেকেই দখলের প্রতিযোগিতা। নদীর প্রবেশমুখ থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে একটু সামনে হাঁটলে দেখা যায় নদীর পাড় ঘেঁষে বাঁশ, টিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট।

এসব তদারকি করবে যে সংস্থা সেই সংস্থাই অবৈধ দখলে কেন নিয়োজিত হয়েছে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক মো. কবির হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মূলত বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের অধীনে এই কাজ হচ্ছে। বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এই অবকাঠামোগত উদ্যোগ। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

কিন্তু বিআইডব্লিটিএ যাই বলুক না কেন সংস্থাটি নিজেই সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ করেছে জানিয়ে রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ২০২৪ সালে আমরা ‘বুড়িগঙ্গা : নিরুদ্ধ নদী পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক একটা গবেষণা পরিচালনা করেছিলাম। ওই গবেষণায় ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে বুড়িগঙ্গার সম্পূর্ণ অংশ শনাক্ত ও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। নদীটির প্রকৃত উৎসমুখ ও দৈর্ঘ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৯ কিলোমিটার, বিআইডব্লিউটিএ ৪৫ কিলোমিটার, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ২৯ কিলোমিটার এবং পর্যটন করপোরেশন ২৭ কিলোমিটার হিসেবে বুড়িগঙ্গার দৈর্ঘ্য উল্লেখ করেছে। কিন্তু আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী বুড়িগঙ্গার উৎপত্তিস্থল। নদীটি সমাপ্ত হয়েছে কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের জাজিরা বাজারের কাছে ধলেশ্বরী নদীতে। এর মোট দৈর্ঘ্য ৪১ কিলোমিটার। ১৯১২ সালে যতীন্দ্রমোহন রায়ের লেখা ‘ঢাকার ইতিহাস’ বইয়েও বুড়িগঙ্গার দৈর্ঘ্য ৪১ কিলোমিটার বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কিলোমিটারের হিসাবে যা আসুক দখলের কবলে পড়ে বুড়িগঙ্গা আর নদীর তালিকায় নেই। প্রথমত, সেখানে অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা তৈরিসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আরেকটি অংশ ভরাট হয়ে ফসলি জমি হয়েছে। তৃতীয়ত, একটি অংশকে মানুষ খাল হিসেবে চেনে। সেখানে বর্ষায় পানি থাকে, কখনো শুকনা থাকে। রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক নানা কারণে বুড়িগঙ্গার দখলপ্রক্রিয়ায় অব্যাহত রয়েছে। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে এর রক্ষক হিসেবে পরিচিত বিআইডব্লিউটিএ। আমরা দেখেছি প্রতিষ্ঠানটি নিজেই বিভিন্ন সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে। এবার যেহেতু তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে তা হলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। বুড়িগঙ্গা অববাহিকায় ভূমিরূপের পরিবর্তন বোঝার জন্য এই গবেষণায় ১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি ১০ বছরের ব্যবধানে উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গা অববাহিকায় জলাভূমি ও সবুজ অঞ্চল কমেছে। অন্যদিকে বসতি ও নি¤œভূমি বেড়েছে। এর অর্থ, বুড়িগঙ্গা অববাহিকায় সবুজ অঞ্চল ও জলাভূমি ক্রমবর্ধমান হারে নিম্নভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে নতুন বসতি স্থাপিত হয়েছে। আমরা বুড়িগঙ্গার দুই তীর ঘেঁষে ২৫০টি স্থাপনা শনাক্ত করেছিলাম। যার মধ্যে ১০৮টি কারখানা, ৪৩টি শিপইয়ার্ড, ২৩টি মিল, ২২টি শিল্প স্থাপনা, ১৯টি গুদাম ও ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। তবে প্রবেশাধিকার না থাকায় সব স্থাপনার দূষণের মাত্রা ও ধরন এই গবেষণায় পরীক্ষা সম্ভব হয়নি। এবার ঘাট নির্মাণের নামে বিআইডব্লিউটিএ নিজেই প্রকৃতির জন্য মারাত্মক হুমকি ডেকে আনছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, লালবাগ, হাজারীবাগ এবং কামরাঙ্গীরচরের মধ্য দিয়ে গত শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা দিয়ে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো। ১৯১২ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম ভূমি জরিপে ক্যাডেস্টাল সার্ভেতে (সিএস) বুড়িগঙ্গা প্রবহমান নদী হিসেবে চিহ্নিত। চল্লিশের দশকে বুড়িগঙ্গা দখল শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শুষ্ক মৌসুমে নদীগর্ভে ধান চাষ করে তাদের প্রাথমিক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৫৪ সালে এসএ (সার্ভে অব আর্টিকেল) রেকর্ডে দখলদাররা সংশ্লিষ্ট দাগের জমিতে নিজেদের অবস্থান দেখিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নেন এবং এসএ রেকর্ডে তা লিপিবদ্ধ করিয়ে নেন। ১৯৭২ সালের সংশোধিত দখল জরিপের রিভাইসড সার্ভেতে (আরএস) দখলদাররা নদীর জমি তাদের দখলে দেখায় এবং তাদের মালিকানা পাকাপোক্ত করে ফেলে। বিশেষ করে আশির দশক থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর বুক ভরাট করে ঘরবাড়ি নির্মাণের হিড়িক পড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বিআইডব্লিটিএ।

এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কিভাবে স্থাপনাটি নির্মাণ করছে, সেটি জানার জন্য এরই মধ্যে কোতোয়ালি রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার আশরাফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বুড়িগঙ্গা রাজধানীর প্রাণ। তাই এটি রক্ষার্থে আমাদের যা যা করণীয় তাই করব।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!