রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় আজ বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্র্য করেছেন আদালত। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই মামলার রায়ের দিন জানানো হতে পারে। এমনটাই বলছেন আদালত সংশ্লিষ্ট আইন বিশ্লেষকেরা। বহুল আলোচিত এই মামলার আইনি ধাপগুলো শেষে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন দেশবাসী।
এদিকে গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দুই আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সোহেল রানা আদালতকে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে মুক্তি দেন। আমার একটা ছাওয়াল আছে, আমাকে ক্ষমা করে দেন স্যার।’ এ সময় তিনি আবারও ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সোহেল আদালতকে বলেন, ‘ডলার আমার সঙ্গে ছিল। তাকে কেউ দেখেনি। তাকেও ধরেন স্যার, সেও অপরাধী।’
তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই বক্তব্যকে বিচার প্রক্রিয়া বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে। বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল কখনো ‘ডলার’ নামের কারও কথা বলেননি। এখন নতুন করে এই চরিত্রের অবতারণা করে তিনি বিচারকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
অপর আসামি স্বপ্না আক্তার আদালতে দাবি করেন, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আলামত, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ আসামিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণে রামিসাকে খোঁজাখুঁজি, সন্দেহজনক ফ্ল্যাট শনাক্ত, ঘরের ভেতরে রক্তের আলামত এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে সোহেলকে পালাতে সহায়তার অভিযোগও স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
পরে বিচারক দুই আসামির কাছে এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা জানতে চান। জবাবে সোহেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে স্বপ্না সব দায় অস্বীকার করেন।
শুনানির পুরো সময় সোহেল রানাকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরনে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, ‘এটি ছিল ৩৪২ ধারার আসামি পরীক্ষা পর্ব, যা রায় ঘোষণার আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বৃহস্পতিবার (আজ) যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করবেন।’
এর আগে গত সোমবার দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। পরদিন এক দিনেই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ট্রাইব্যুনাল। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন রামিসার বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

