ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৬ নবজাতকের মৃত্যু

আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা প্রমাণিত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৫:৩৫ এএম

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। অননুমোদিত অবকাঠামোর কারণেই এসব মৃত্যু উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আসামিরা কোনোভাবেই ছাড় বা সুবিধা পাবে না এ ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তৃণমূলের মানুষের দোড়গোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে একগুচ্ছ বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবায় কারো কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না।

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য খাতের রূপরেখা নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভার সিদ্ধান্তগুলো জানাতে গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আদ-দ্বীনের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে অবহেলার অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলে দুটি মিলিয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পোস্টমর্টেম না হলে আসামিপক্ষ সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, তবে চরম অবহেলার প্রমাণ ও অননুমোদিত কাঠামোর কারণে আসামিরা কোনো ছাড় বা বেনিফিট পাবে না বলে মন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও অবহেলার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য খাত গড়তে কাজ শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের আবাসন সংকট দূর করতে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার কাজ আগামী জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবেন। এছাড়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ উচ্ছেদ করে সেখানে নতুন আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে দেশের পাঁচটি বৃহৎ শহরে বা শহরসংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে শুধু মা ও বোনদের জন্য ১০০০ বেডের পাঁচটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ এই অর্থবছরের মধ্যেই শুরু হবে। আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের (মিনস) ইকুইপমেন্ট ও জনবলসহ নতুন ভবন পুরোদমে উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের ঘরে ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে জাপান সরকারের সহযোগিতায় একটি বিশেষ পাইলটিং প্রজেক্ট হবে। ৬ থেকে ১০টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মেডিকেল কিট বক্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে অ্যাপস ব্যবহার করে রক্ত, ইউরিন, ডায়াবেটিসসহ সব পরীক্ষা করা হবে এবং রোগীর ডাটা অ্যাপসে সংরক্ষিত থাকবে। এই পাইলটিং সফল হলে পরবর্তীতে দেশজুড়ে ১ লাখ মিডওয়াইফ, কেয়ারগিভার, হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে এটি সারা বাংলাদেশে চালু করা হবে।

আসন্ন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর ভেরিয়েন্ট আইডেন্টিফাই করে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ‘সোসাইটি অব মেডিসিন’ আগামী শনিবার থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনসহ চিকিৎসকদের ট্রেনিং প্রদান শুরু করবে। এরপর প্রতিটি উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রাইমারি ট্রিটমেন্টের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হবে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সেন্ট্রাল স্টকে ১ লাখ স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে, পাশাপাশি ইউনিসেফ, রেড ক্রিসেন্ট ও দেশের প্রাইভেট ফার্মাগুলো থেকেও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে সভা সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে তারা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ সিট ফ্রি রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ইনভেস্টিগেশন চার্জের ৮০ শতাংশ মওকুফ করবে এবং চিকিৎসকের কোনো ভিজিট ফি নেবে না। মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জুম মিটিং করা হয়েছে, যেখানে লার্ভা ধ্বংস করার জন্য বিশেষ জাপানি ট্যাবলেট ছিটানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশে চলমান হামের সংক্রমণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নতুনভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি, পরিস্থিতি একই জায়গায় থিতু হয়ে আছে। গত মাসের ২০ তারিখে যে শিশুদের ভ্যাক্সিনেটেড করা হয়েছে, তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে এই মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় লাগবে এবং এরপর সংক্রমণ কমে আসবে। ডেঙ্গু ও হাম একসঙ্গে বড় আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং ঢাকা মেডিকেলের পাশে তাঁবু নিয়ে একটি মোবাইল হাসপাতাল করা হয়েছে, প্রয়োজনে রাতারাতি এমন আরও চার-পাঁচটি মোবাইল হাসপাতাল তৈরি করা হবে।