লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকায় শিশু নন্দিনী হত্যাকা-ে আসামি গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মব ও উত্তেজনার পর সেখানে বেশ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছেন স্থানীয় পুরুষেরা।
স্থানীয়রা জানান, কিছু উশৃঙ্খল লোকজন অতি উৎসাহী হয়ে প্রশাসন ও সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং অরাজকতা চালায়। প্রশাসনের গাড়িতে হামলা এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশ-বিজিবি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। এরপর থেকে এলাকাটিতে পুরুষ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর ছেড়েছেন। এদিকে শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভাঙচুর ও প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনায় জানতে চাইলে ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সংস্থা বাইসসের লালমনিরহাট জেলা আহ্বায়ক মো. আব্দুল করিম বলেন, ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জনমনে আতঙ্ক থাকায় গ্রামের কিছু কিছু মানুষ বাড়ির বাইরে অবস্থান করছে।
প্রশাসনের কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আদিতমারী থানার পুলিশ পরিদর্শক তাজরুল ইসলাম সর্দার জানান, ফলিমারী এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। এখনো কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সকাল থেকে আমি নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। ইটের আঘাতে আমি নিজেও আহত হয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাধাদানের ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হবে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, নৃশংস এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
গত মঙ্গলবার মাদকসেবী বিধান চন্দ্র প্রতিবেশী নন্দিনীকে ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখে। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাড়ির বাইরে তালা দিয়ে ভেতরে আত্মগোপনে থাকেন বিধান চন্দ্র। তার সেই বাড়ি বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর করে বিধানকে আটক করে। নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইলে পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংর্ঘষ হয়।

