টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসা ও হেফজখানার অন্তত আটজন কিশোরী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবার বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পাশের পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ উদ্ধার অভিযানে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্যাম্প প্রশাসন জানায়, নিহত আটজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলোÑ রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন; তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিকেল ৫টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। দুর্ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং উদ্ধার-পরবর্তী কার্যক্রম তদারকি করছে আরআরআরসি কার্যালয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অনেকে আগেই বেরিয়ে গেলেও পাহাড়ঘেঁষা একটি কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ বিপুল পরিমাণ মাটি ধসে পড়ে। এতে তারা মাটিচাপা পড়ে। ক্যাম্প-৫-এর এক বাসিন্দা জানান, মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার কয়েক মিনিট বাকি ছিল। এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি দাবি করেন, মাটি ভরাট করেই মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর আগে গত সোমবার রাতে টানা বর্ষণে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনাসহ গত তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

