ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

বন্যা পরিস্থিতি

দক্ষিণে উন্নতির আভাস, উত্তর-পূর্বে নতুন শঙ্কা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম

দেশে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে একই সময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গতকাল শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। তবে নদীর পানি কমলেও চট্টগ্রাম শহরের কিছু কিছু নি¤œাঞ্চলে জলাবদ্ধতা বিরাজ করতে পারে। এই জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি তুলনামূলক কিছুটা ধীরগতিতে উন্নতি লাভ করবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলায় এবং সংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বেড়ে অনেক জায়গায় নদীসংলগ্ন নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যেই সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় শনিবার রাতের মধ্যেই দেশের ১৯ জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আগামী পাঁচ দিনও দেশজুড়ে দাপটে থাকতে পারে আষাঢ়ের বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি মধ্য উত্তরপ্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এতে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আর এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান আছে।

এ অবস্থায় আজ রোববার ও কাল সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এ দুই দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।