ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

৫৫ বছরেও পাকা হয়নি দুই কিলোমিটার সড়ক

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও পাকা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও নিত্যযাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুহুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরাও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না, এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক কাঁচাই রয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছার অভাবে আজও কোনো উন্নয়ন হয়নি। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।’

পথচারী রহমান মিয়া বলেন, ‘বহু বছর ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। এবার সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি।’ এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি গ্রামের নয়, আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষক এ সড়ক ব্যবহার করেন। তাই জনদুর্ভোগ লাঘব এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সড়কটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় রোড আইডির জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গেজেট সম্পন্ন হলে সরকারি বরাদ্দ ও উপযুক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’