ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সিঙ্গাপুর থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেছেন কি নাÑ সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তবে এটি সত্যি হয়ে থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকার বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণপত্রটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। ভারত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জোটটির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলোÑ ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে, জোটটির অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম।
ভারতের বর্তমান অস্থিরতা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রতিবেশী হিসেবে সবসময় এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেখতে চায়। আমরা আশা করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তাদের জনগণের অবস্থান বিবেচনা করবে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জেই গোরের আসন্ন ঢাকা সফর নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন এই বিশেষ দূত আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসছেন। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। এই সফরের মাধ্যমে নতুন ইতিবাচক সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে বলে মনে করি। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে কীভাবে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায়Ñ আলোচনায় সেটিই প্রাধান্য পাবে।
এছাড়া প্রবাসীদের বহুল আলোচিত পাসপোর্ট ও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত জরুরিভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান শামা ওবায়েদ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন