রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যেই একটি আরসিসি (রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) সড়ক ও ড্রেনের ঢালাই কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বর্ষার মধ্যে এ ধরনের কাজ বন্ধ রেখে আবহাওয়া অনুকূল হলে পুনরায় নির্মাণকাজ করা হোক। অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বিল্লি উত্তরপাড়া জামে মসজিদ থেকে সুলতানের বাড়ি পর্যন্ত নির্মাণাধীন প্রায় ২০০ মিটার আরসিসি সড়ক ও ৯০ মিটার ড্রেনের ঢালাইয়ের কাজ থেমে থেমে বৃষ্টির মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ওই সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার পরে কাজটি অন্য একজন ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করেন। নির্ধারিত অর্থবছরে কাজ শুরু না হলেও চলতি বর্ষা মৌসুমে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকলেও কাজ শুরু করা হয়নি। অথচ টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এতে বৃষ্টির পানির মধ্যে সড়কের সোলিং ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নির্মাণের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অল্প সময়েই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সড়কে পর্যাপ্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। পাশাপাশি নির্মাণকাজে স্থানীয়দের আপত্তি ও পরামর্শও আমলে নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণের সময় আমার বাড়ির পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপ বসানোর কথা ছিল। কিন্তু সেটি দেওয়া হয়নি। উপরন্তু বৃষ্টির মধ্যেই ঢালাই করায় কাজের মান নিয়েও আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রায় ২০০ মিটার আরসিসি সড়ক ও ৯০ মিটার ড্রেন নির্মাণে আনুমানিক ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, ‘সোমবার আমি উপজেলা সদরে ছিলাম। বৃষ্টি হলে যেন ঢালাই না দেওয়া হয়, সে নির্দেশ সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে (এসও) দিয়েছিলাম। পরে তিনি আমাকে জানান, কাজের সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি।’
উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) রিপনও দাবি করেন, ‘ঢালাইয়ের সময় ওই এলাকায় বৃষ্টি হয়নি বলেই কাজ করা হয়েছে।’ তবে প্রকল্পের বরাদ্দ ও ঠিকাদারসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি গত অর্থবছরের প্রকল্প। বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে হলে ফাইল দেখতে হবে। আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প হতে পারে।’ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে স্থানীয়রা নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের মতো কাজ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন