বাংলাদেশের জ্বালানি খাত গত এক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। এক সময় শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল সবচেয়ে সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী রান্নার জ্বালানি। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের নিম্নচাপ, দীর্ঘ সময় সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং নতুন সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। একই সময়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল জ্বালানি খাতে পরিণত হয়েছে।
শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে উঠেছে টার্মিনাল, বোতলজাতকরণ কেন্দ্র, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং বিস্তৃত ডিলার ব্যবস্থা। বর্তমানে শহর থেকে গ্রাম প্রায় সর্বত্র এলপিজি সিলিন্ডার সহজলভ্য। আর এই সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে এর বাজার আরও বাড়াতেই বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশ থেকে এলপিজি কেনার জন্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এ অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অনেকে আবার এলপিজি ব্যবসায়ীদের কারসাজিকেও দায়ী করছেন। তারা বলছেন, সরকারকে প্রভাবিত করে প্রাকৃতিক গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরিতে বাধ্য করছেন তারা।
দেশে আবাসিক পাইপলাইনের গ্যাস একসময় নগর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু গত এক দশকের বেশি সময় সরকারের জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসে। নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সরকার ধীরে ধীরে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজিকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করে। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমতে থাকে, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হয়।
২০১৫ সালের দিকে সরকার প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করতে শুরু করে যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তিতাস, হবিগঞ্জ, কৈলাশটিলা, রশিদপুরসহ পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কমে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় দেশীয় উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে। সরকার এটিকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনা শুরু হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয় এলএনজি আমদানি। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েই এলএনজি আমদানিতে বড় ধরনের ধাক্কা খায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলেও সম্প্রতি মহেশখালীতে দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় দেশজুড়ে গ্যাসের সরবরাহ নেমে আসে তলানীতে। আবাসিক, শিল্প, পরিবহন- সব খাতে তৈরি হয় গ্যাসের তীব্র সংকট।
তবে এই সংকটকে কৃত্রিম দাবি করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবেই এ সংকট তৈরি করেছে। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থবির করে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক লক্ষণ নয়। এর ওপর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়। চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। এর অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন বা এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির শর্ত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায়ই দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার; যা গত ২৯ জুন ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার ডা. মো. ফজলে রাব্বী এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার লরা অ্যান্ডারসনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় একটি বৈঠক হয়।
ওই বৈঠকেই দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি করা হয় তাহলে কাতার বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে এলএনজি আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। আর আমাদের নিজেদের প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন তো নেই-ই। তাহলে এলপিজির বাজার বড় করা ছাড়া আর কি উপায় রয়েছে সরকারের কাছে? এছাড়া দেশীয় এলপিজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তো রয়েছেই। যারা নানাভাবে সরকারকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করতে উৎসাহিত করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। তাই আমি মনে করি গ্যাসের সাম্প্রতিক সংকটের তীব্রতা কৃত্রিম। এলপিজির বাজার বাড়াতেই এমনটি করা হচ্ছে। এলপিজির বাজার স¤প্রসারণের সুবিধার্থে গ্যাসের সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি শুধু অর্থনীতির নয়, জনজীবনেরও মৌলিক ভিত্তি। একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে কোটি মানুষের ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জীবনমানের ওপর। গত এক দশকে নতুন আবাসিক পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বেড়েছে, এলপিজি শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, রান্নার জ্বালানির ব্যয় সাধারণ পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এসব ঘটনা কোনো কাকতালীয় নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, গত কয়েক মাস আমরা এলপিজির বাজারে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দেখেছি। দেড় হাজার টাকার এলপিজি ৩ হাজার টাকায়ও বিক্রি হতে দেখেছি। এখন যদি কৃত্রিমভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট তৈরি করা হয় তাহলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হবে এলপিজি কিনতে। সেটা গৃহস্থালিতেই হোক বা শিল্পেই।
জনভোগান্তির বাস্তব চিত্র
ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরার বহু এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সকাল ও সন্ধ্যায় চুলায় আগুন জ্বলে না বা খুব কম চাপ থাকে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা এলপিজি ব্যবহার শুরু করেছে।
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সাদাফ হাসনাইন মানজুর বলেন, আমার রেস্টুরেন্ট গ্যাসের অভাবে কয়দিন বন্ধ রেখেছিলাম। পরে গ্রাহকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে পুনরায় চালু করেছি। এ অবস্থা শুধু আমার নয়, আমার পরিচিত বেশির ভাগ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরই।
অভিযোগ করেন গৃহস্থালির বাসিন্দারাও। রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার বাসিন্দা হীরা তালুকদার বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের চুলায় গত ১ সপ্তাহ যাবৎ গ্যাস নেই। মঙ্গলবার বাধ্য হয়ে তাই এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছি। শিল্পাঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানাকে ডিজেলচালিত বয়লার বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অনেকে আবার এলপিজি দিয়েও চাহিদা মেটাচ্ছেন।
অন্যদিকে, যেসব নতুন আবাসিক প্রকল্প নির্মিত হয়েছে, তাদের অধিকাংশই শুরু থেকেই এলপিজিনির্ভর। অর্থাৎ নতুন নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে পাইপলাইন গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
সরকারি ব্যাখ্যা
সরকার বারবার বলেছে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে কমছে, নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার সীমিত, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে, তাই আবাসিক খাতে নতুন পাইপলাইন সম্প্রসারণ অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক নয়, বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাখ্যা জ্বালানি পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন হলো- যদি সংকট আগে থেকেই অনুমান করা হয়ে থাকে, তবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন, বিতরণ অবকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ কেন করা হয়নি?
এলপিজি শিল্পের উত্থান
এক সময় দেশে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এলপিজি বাজারে ছিল। বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে বহু কোম্পানি এই খাতে বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগের পেছনে কয়েকটি কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ, গ্রামীণ এলাকায় পাইপলাইন গ্যাস না থাকা, নগর সম্প্রসারণ, সরকারের বিকল্প জ্বালানি নীতি, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।
ফলে এলপিজির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে সরকার নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ অনুমোদনের গতি কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিকে সীমিত সংযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যদিও সর্বত্র একই নীতি কার্যকর ছিল না, তবু বাস্তবে নতুন সংযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালে জ্বালানি উপদেষ্টা প্রকাশ্যে বলেন, আবাসিকে নতুন পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই; বরং এলপিজিকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গৃহস্থালিতে পাইপলাইন গ্যাস অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি করে এবং সীমিত গ্যাস শিল্পে ব্যবহার অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং মোট সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় সরকার ভবিষ্যতেও নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এলপিজি এক সময় ছিল সীমিত পরিসরের একটি জ্বালানি। মূলত যেসব এলাকায় পাইপলাইন গ্যাস পৌঁছায়নি, সেসব অঞ্চলে অল্পসংখ্যক পরিবার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করত। কিন্তু গত এক দশকে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে দেশের প্রায় সব জেলায় এলপিজি সহজলভ্য এবং এটি রান্নার পাশাপাশি শিল্পকারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কিছু ক্ষেত্রে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে। নতুন আবাসিক পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া, দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি, বেসরকারি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও বিতরণ নেটওয়ার্কের বিস্তার।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক ব্যবহার কয়েক লাখ টনের স্তর থেকে বেড়ে ১২-১৮ লাখ টনের পরিসরে পৌঁছেছে। এই সময়ে আবাসিক ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি শিল্পখাতেও এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিল্প পর্যাপ্ত পাইপলাইন গ্যাস পাচ্ছে না, তারা বয়লার ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এলপিজি ব্যবহার শুরু করেছে। আর সাম্প্রতিক গ্যাসের সংকট এলপিজির বাজার বাড়াতেই উৎসাহিত করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
জিম্মি ভোক্তারা
দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অনেক বেশি দাম আদায় করে নিচ্ছে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এক একটি সিলিন্ডারে। বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করেই উৎপাদনকারী কোম্পানিসহ খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা ভোক্তাদের জিম্মি করে আদায় করছেন অতিরিক্ত অর্থ। একেকটা সিলিন্ডার প্রতি ৩শ থেকে ৫শ টাকা বাড়তি আদায় করা যেন এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন একে অপরকে।
২০২৩ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের এক জরিপে বলা হয়, এক সিলিন্ডার এলপি গ্যাস কিনতেই ভোক্তাদের মাসে অন্তত ২১৫ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়। সমন্বিতভাবে এই অর্থ লোপাটে নেতৃত্ব দিচ্ছে উৎপাদনকারী মিল, ডিলার, এমনকি খুচরা বিক্রেতারা। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।
সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানান এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতা মো. সেলিম খান। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, বিইআরসি যেদিন ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সেদিনই পাইকারি পর্যায়ে তা ২২শ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। বিইআরসি দাম যাই নির্ধারণ করুক না কেন মিলগেট থেকেই আমাদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হয় একেকটি সিলিন্ডার। সব খরচ মিলিয়ে আমাদের পক্ষে বিইআরসি ঘোষিত দরে বিক্রি করা সম্ভব নয়। বাজারের একচ্ছত্র অধিকার পেলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ গ্রাহকরা।

