ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে প্রথম দ্বৈরথ

 মিনহাজুর রহমান নয়ন
প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরই নয়, এটি ইতিহাস আর স্বপ্নের মিলনমঞ্চও। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের ম্যাচটি তেমনই এক গল্পের জন্ম দিতে চলেছে। একদিকে বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহ্যবাহী উরুগুয়ে, অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।

উরুগুয়ের গৌরবময় অতীত : বিশ্বকাপের ইতিহাস শুরু হয়েছিল উরুগুয়ের হাত ধরেই। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন ও শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে দেশটি। এরপর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে তারা।

মাত্র সাড়ে তিন মিলিয়ন মানুষের দেশ হলেও ফুটবলে উরুগুয়ের প্রভাব অনেক বড়। আলসিদেস ঘিগিয়া থেকে শুরু করে এনজো ফ্রান্সেস্কোলি, দিয়েগো ফোরলান, লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানিÑ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিশ্বমানের ফুটবলার উপহার দিয়েছে দেশটি।

কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রা : আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের গল্প একেবারেই ভিন্ন। সীমিত জনসংখ্যা ও অবকাঠামো নিয়েও তারা ধীরে ধীরে আফ্রিকান ফুটবলে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন। বিশ্বকাপে অভিষেকের পরই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, তারা শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি; প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও এসেছে।

প্রথমবারের মতো মুখোমুখি : উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে এর আগে কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ম্যাচই হবে দুই দলের ইতিহাসের প্রথম সাক্ষাৎ। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণের কারণও বটে। একদিকে বিশ্বকাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা একটি দলÑ এমন বৈপরীত্য সচরাচর দেখা যায় না।

গ্রুপপর্বে বড় পরীক্ষা : গ্রুপ ‘এইচ’-এর হিসাব-নিকাশে ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করেছে। অন্যদিকে কেপ ভার্দে স্পেনের বিপক্ষে চমক দেখিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই ম্যাচের জয়ী দল নকআউটপর্বের পথে বড় সুবিধা পাবে। আর পরাজিত দলের জন্য সামনে অপেক্ষা করতে পারে কঠিন সমীকরণ।

অভিজ্ঞতা বনাম আত্মবিশ্বাস : উরুগুয়ের বর্তমান দলে ফেদেরিকো ভালভার্দে, রোনাল্ড আরাউহো ও ডারউইন নুনিয়েজের মতো তারকারা রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বড় আসরে খেলার অভিজ্ঞতাও তাদের পক্ষে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি দলগত সংহতি ও নির্ভীক মানসিকতা। হারানোর কিছু নেই বলেই তারা আরও সাহসী ফুটবল খেলতে পারে, যা বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য।

নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় : কাগজে-কলমে উরুগুয়ে এগিয়ে। ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও তারকাখচিত দলÑ সবকিছুই তাদের পক্ষে কথা বলে। কিন্তু বিশ্বকাপের সৌন্দর্য হলো, এখানে সব হিসাব সবসময় মেলে না। ২২ জুনের ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়; এটি হবে ঐতিহ্য ও স্বপ্নের সংঘর্ষ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উত্তরাধিকার কি আবারও নিজেদের শক্তি দেখাবে, নাকি বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন এক রূপকথা লিখবে কেপ ভার্দেÑ সেই উত্তর খুঁজতেই মুখিয়ে ফুটবল বিশ্ব।