বর্তমানে আমরা যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি, সেখানে অ্যালগরিদম বা কন্টেন্ট প্রদর্শনের নিয়ন্ত্রণ থাকে বড় বড় টেক জায়ান্টদের হাতে। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে পাবলিশার এবং ক্রিয়েটরদের হাতে নিজেদের কন্টেন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে ফ্লিপবোর্ড নিয়ে এলো এক অভিনভ ধারণাÑ ‘সোশ্যাল ওয়েবসাইট’ (ঝড়পরধষ ডবনংরঃবং)।
কী এই ‘সোশ্যাল ওয়েবসাইট’?
ফ্লিপবোর্ডের এই নতুন উদ্যোগটি মূলত একটি ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল গন্তব্য। এখানে একজন ক্রিয়েটর তার নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন যেখানে একই সঙ্গে থাকবে সোশ্যাল পোস্ট (ব্লুস্কাই, মাস্টোডন বা থ্রেডস), ইউটিউব ভিডিও, পডকাস্ট এবং আরএসএস (জঝঝ) ফিডের মাধ্যমে যুক্ত করা বিভিন্ন ব্লগ বা নিউজলেটার। সহজ কথায়, আপনার কাজের সব আলাপ-আলোচনা ইন্টারনেটের যে প্রান্তেই ছড়িয়ে থাকুক না কেন, ‘সোশ্যাল ওয়েবসাইট’ সেগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসবে।
অ্যালগরিদমের ওপর নিজের ক্ষমতা
ফ্লিপবোর্ডের সিইও মাইক ম্যাককিউ বলেন, ‘এটি সোশ্যাল মিডিয়ার একটি নতুন মডেল যেখানে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির অ্যালগরিদম নয়, বরং ক্রিয়েটর বা পাবলিশার নিজেই তার কমিউনিটির অভিজ্ঞতা নিয়ন্ত্রণ করবেন।’ নতুন করে ফলোয়ার বাড়ানোর বদলে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে বিদ্যমান আলোচনাগুলোকে এখানে একীভূত করার সুযোগ থাকায় এটি সময় সাশ্রয়ী এবং অধিক কার্যকর।
‘সার্ফ’ (ঝঁৎভ) ফিডের জাদুকরী ছোঁয়া
ফ্লিপবোর্ডের এই সার্ভিসটি মূলত তাদের রিডার অ্যাপ ‘সার্ফ’ (ঝঁৎভ) দ্বারা পরিচালিত। ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই ংঁৎভ.ংড়পরধষ-এ গিয়ে নিজের ফিড তৈরি করতে পারেন। সেখানে সোর্স যোগ করা, হ্যাশট্যাগ নির্ধারণ করা এবং ফিল্টার বসানোর সুযোগ রয়েছে। ফিডটি সেট-আপ হয়ে গেলে একটি কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করে একে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটে রূপান্তর করা যায়, যা ইন্টারনেটের যেকোনো জায়গায় শেয়ার করা সম্ভব।
বড় বড় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
বিশ্বখ্যাত বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এবং পাবলিশার ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব সোশ্যাল ওয়েবসাইট চালু করেছে। দ্য ভার্জ (ঞযব ঠবৎমব), ওয়ারড (ডরৎবফ) এবং রোলিং স্টোন (জড়ষষরহম ঝঃড়হব)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এই একটি হাবের মাধ্যমেই তাদের সাংবাদিক, পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলোকে পাঠকদের সামনে নিয়ে আসছে। এ ছাড়া এনবিএ ভক্তদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘অল নেট’ (অষষ ঘবঃ) নামক একটি সাইট, যা বাস্কেটবলবিষয়ক খবরের এক অনন্য গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
আগামীর সম্ভাবনা
ফ্লিপবোর্ড জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে এই সোশ্যাল ওয়েবসাইটগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে কাস্টম হেডার, বিভিন্ন রঙ এবং উন্নত ফিড ম্যানেজমেন্ট টুল যুক্ত করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই উন্মুক্ত এবং বিকেন্দ্রীকৃত সংস্করণে ফ্লিপবোর্ডের এই পদক্ষেপটি ক্রিয়েটরদের জন্য তাদের কাজের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন