প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ফেসবুকে যুক্ত করেছে একাধিক নতুন সুবিধা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো নতুন ‘এআই মোড’, যেখানে ব্যবহারকারীরা সাধারণ ভাষায় প্রশ্ন করলে মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফেসবুকের উন্মুক্ত পোস্ট, বিভিন্ন গ্রুপের আলোচনা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ভিডিও থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সংক্ষিপ্ত উত্তর তৈরি করবে।
আগে কোনো বিষয় জানতে হলে ব্যবহারকারীদের অসংখ্য ফলাফলের মধ্যে খুঁজতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় মেটা এআই বিভিন্ন আলোচনার মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় উত্তর উপস্থাপন করবে, ফলে তথ্য খুঁজে পাওয়া হবে আরও দ্রুত ও সহজ।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থায় একটি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে উত্তর তৈরি করবে, তা মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রকাশ করা পোস্ট ও আলোচনার ওপর নির্ভর করবে। ফলে কখনো কখনো পুরোনো, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যও উত্তরের অংশ হয়ে যেতে পারে।
শুধু অনুসন্ধানেই নয়, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা এনেছে মেটা। ব্যবহারকারীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ছবিতে নতুন পোশাক, ভিন্ন ধরনের চুলের সাজ বা বিভিন্ন অলংকার যোগ করতে পারবেন। এমনকি প্রিয় ক্রীড়া দলের জার্সি পরা অবস্থার ভার্চুয়াল ছবিও সহজেই তৈরি করা সম্ভব হবে।
ভিডিও নির্মাতাদের জন্যও যুক্ত হয়েছে নতুন সম্পাদনা সরঞ্জাম। বিভিন্ন দৃশ্যের মধ্যে আকর্ষণীয় পরিবর্তন, কোলাজ তৈরি এবং সৃজনশীল বিন্যাস যোগ করে ভিডিওকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মেটা ধারাবাহিকভাবে ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নানা সুবিধা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থির প্রোফাইল ছবিকে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলা, অনলাইন কেনাবেচায় ক্রেতাদের বার্তার স্বয়ংক্রিয় উত্তর তৈরি এবং বিষয়বস্তু নির্মাতাদের জন্য প্রকাশের উপযুক্ত সময় ও দর্শকদের মতামতের সারসংক্ষেপ দেওয়ার ব্যবস্থা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মেটা ফেসবুককে আরও বুদ্ধিমান, ব্যবহারবান্ধব এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে চায়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অতিরিক্ত সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সেবা চালুর মাধ্যমে নতুন আয়ের পথও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সব মিলিয়ে মেটার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ ফেসবুক ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে তথ্যের নির্ভুলতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ব্যবহারকারীদের আস্থার ওপর।

