ব্যস্ত জীবনে দিনের শুরুটা গুছিয়ে নিতে অনেকেই স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করেন। তবে একই তথ্য জানতে বারবার ক্যালেন্ডার, আবহাওয়া, রিমাইন্ডার বা মানচিত্রের মতো বিভিন্ন অ্যাপ খুলতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। আইফোনের ‘শর্টকাটস’ (ঝযড়ৎঃপঁঃং) অ্যাপ এই ঝামেলা কমিয়ে একাধিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
অ্যাপল জানিয়েছে, ভবিষ্যতের আইওএস ২৭ সংস্করণে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স যুক্ত হওয়ার ফলে শর্টকাট তৈরি করা আরও সহজ হবে। তবে বর্তমান সংস্করণেও কয়েকটি কার্যকর শর্টকাট ব্যবহার করে সকালের রুটিন অনেকটাই সহজ করা সম্ভব।
১. এক নজরে সকালের প্রয়োজনীয় তথ্য
‘মর্নিং সামারি’ নামে একটি শর্টকাট ব্যবহার করে দিনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য এক জায়গায় দেখা যায়। এতে ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত সময়সূচি, রিমাইন্ডার, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, তাপমাত্রা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়। ফলে আলাদা আলাদা অ্যাপ খুলতে হয় না।
২. কখন বের হলে সময়মতো পৌঁছাবেন
অফিস বা অন্য কোনো গন্তব্যে কখন রওনা হলে সময়মতো পৌঁছানো যাবে, সেটিও শর্টকাটস অ্যাপ হিসাব করে দিতে পারে। এটি বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি, যাত্রার সম্ভাব্য সময় এবং ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত মিটিং বা কর্মসূচির সময় বিবেচনা করে বাসা থেকে বের হওয়ার উপযুক্ত সময় জানিয়ে দেয়।
৩. দেরি হলে স্বয়ংক্রিয় বার্তা
কোনো কারণে অফিস বা বৈঠকে পৌঁছাতে দেরি হলে ‘রানিং লেট’ শর্টকাটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় নির্ধারণ করে। পাশাপাশি সহকর্মী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঠানোর জন্য একটি বার্তার খসড়াও তৈরি করে দেয়। ব্যবহারকারী চাইলে তা যাচাই করে সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিতে পারেন।
৪. অফিসে পৌঁছেই প্রয়োজনীয় কাজের স্মরণ
লোকেশনভিত্তিক রিমাইন্ডার ব্যবহার করে অফিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ কাজের নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। একবার অফিসের ঠিকানা যুক্ত করে দিলে পরে শুধু কাজের নাম লিখলেই হবে। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর আইফোন নিজেই সেই রিমাইন্ডার দেখাবে।
৫. এক ট্যাপে সম্পূর্ণ সকালের রুটিন
ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি কাস্টম ‘মর্নিং রুটিন’ তৈরি করতে পারেন। একটি ট্যাপেই কফি তৈরির টাইমার চালু করা, পছন্দের গান বাজানো, প্রয়োজনীয় ই-মেইল বা কাজের অ্যাপ খুলে দেওয়া এবং ফোনের ভলিউম নির্দিষ্ট মাত্রায় সেট করার মতো একাধিক কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব।
এআইয়ের মাধ্যমে শর্টকাট তৈরি হবে আরও সহজ
আসন্ন আইওএস ২৭-এ অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স যুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের আর জটিলভাবে শর্টকাট তৈরি করতে হবে না। সাধারণ ভাষায় কী ধরনের অটোমেশন চান, তা লিখে বা বলে দিলেই এআই সেই অনুযায়ী শর্টকাট তৈরি করে দেবে। এতে নতুন ব্যবহারকারীরাও সহজেই আইফোনের অটোমেশন সুবিধা কাজে লাগাতে পারবেন।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শর্টকাটস অ্যাপের সঠিক ব্যবহার শুধু সময়ই বাঁচায় না, বরং প্রতিদিনের কাজকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করে তোলে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও ব্যস্ত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আইফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনশীলতা-বর্ধক ফিচার।

