রাতের বেলা স্মার্টফোন ব্যবহার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, এমনকি ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকেই মনে করেন, ফোনের ‘ডার্ক মোড’ চালু করলেই এসব সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। ডার্ক মোডে কালো বা গাঢ় পটভূমির ওপর হালকা রঙের লেখা দেখা যায়। কম আলো বা রাতের পরিবেশে এটি স্ক্রিনের তীব্র উজ্জ্বলতা কমিয়ে চোখকে তুলনামূলক আরাম দিতে পারে। বিশেষ করে ওএলইডি (ঙখঊউ) ডিসপ্লে থাকা ফোনে ডার্ক মোড ব্যাটারির চার্জ সাশ্রয়েও ভূমিকা রাখে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ডার্ক মোড সব পরিস্থিতিতে সবার জন্য সমান কার্যকর নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কালো পটভূমিতে ছোট লেখা পড়তে বেশি মনোযোগ দিতে হয়, ফলে চোখের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই শুধু ডার্ক মোড চালু করলেই চোখের সব সমস্যা দূর হবেÑ এমন ধারণা সঠিক নয়।
চোখের আরাম নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা আরও কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। সন্ধ্যার পর নাইট শিফট বা ব্লু লাইট ফিল্টার চালু রাখলে নীল আলোর মাত্রা কমে, যা ঘুমের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অ্যাডাপটিভ ব্রাইটনেস চালু রাখলে আশপাশের আলোর সঙ্গে মিলিয়ে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়, ফলে অতিরিক্ত ঝলকানি এড়ানো যায়। যারা নিয়মিত ফোনে পড়াশোনা বা কাজ করেন, তাদের জন্য ফন্টের আকার কিছুটা বড় করে নেওয়াও উপকারী। এতে চোখকে অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ছোট লেখা পড়তে হয় না। একই সঙ্গে স্ক্রিন টাইমআউটের সময় কমিয়ে রাখলে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন জ্বলে থাকার প্রবণতাও কমে। বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন।

