ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

রাজনীতির বই আছে, বিক্রি কম

সেলিম আহমেদ
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০২:০০ এএম

অমর একুশের বইমেলায় সাহিত্যের নানা ধারার বইয়ের ভিড়ে রাজনীতিবিষয়ক বইও এসেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। দেশের সমসাময়িক রাজনীতি, ইতিহাস ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক নতুন গ্রন্থ। এর মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েই বই বেশি। তবে রাজনীতির বইয়ের প্রতি সাধারণ পাঠকদের আগ্রহ খুব একটা দেখছেন না প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা। তারা বলছেন, মেলায় পাঠক উপস্থিতি কম থাকায় রাজনৈতিক বইয়ের বিক্রি তেমন জমছে না। তবে কিছু বিশেষ শ্রেণির পাঠক রাজনীতির বই কিনছেন।

সরেজমিনে গতকাল সোমবার মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা গেছে, রাজনীতিবিষয়ক উল্লেখযোগ বইয়ের মধ্যে সূচিপত্র এনেছে মারুফ কামাল খানের ‘রজনীতির সদরে অন্দরে’, অনুপ্রাণন প্রকাশনী প্রকাশ করেছে মঞ্জু সরকারের ‘শখের বাগানে সাপ’, আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়েছে মারুফ মল্লিকের ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, উন্নয়ন ও কৌশল’, মারুফ মল্লিক এবং এহসান মাহমুদের তারেক রহমানকে নিয়ে ‘আমি কোন আগন্তুক নই’, মো. মাহবুব আলমের ‘এনসিপির যাত্রা’, বাবুই প্রকাশনী থেকে মোরশেদ আলম হৃদয়ের সম্পাদনায় ‘আদর্শের বাতিঘর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’, অয়ন প্রকাশন থেকে মনিরুজ্জামান বাদলের ‘রাজনীতির জাদুর বাক্স বনাম রাষ্ট্র সংস্কার’, ঐতিহ্য এনেছে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অনূদিত ‘পূর্ব পাকিস্তান রক্ষার শেষ যুদ্ধ’, শফিকুর রেহমানের ‘সংগ্রামী নেত্রী খালেদা জিয়া’, টাঙ্গন প্রকাশনী এনেছে বাবুল বিশ^াসের নাট্যগ্রন্থ ‘দেখা হবে কমরেড’, শামসুল হুদার সম্পাদনায় ‘বিপ্লবী ইলা মিত্রের জন্মশতবর্ষ স্মারক’, শোভা প্রকাশ এনেছে অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সম্পাদনায় ‘লিভিং লিজেন্ড তারেক রহমান : নেতা ও নেতৃত্ব লুক থ্রু’ এবং ‘তারেক রহমানের রাজনীতি : গণঅভ্যুত্থানের সাবলিমিটি’, এশিয়া পাবলিকেশন্স এনেছে আসিফ আহমদ অনূদিত ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জিয়া’, ইসমাইল হোসেন বকুলের ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়া’, কারুবাক প্রকাশনী এনেছে আবদুল মাজেদের ‘জিয়াউর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষণা : একটি ত্রিমাত্রিক বিশ্লেষণ’, শিকড় প্রকাশনী এনেছে ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ‘মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’, আসাদুল করিম শাহীন সম্পাদিত ‘জিয়াউর রহমান : দর্শন ও বিপ্লব’, হেলাল খান সম্পাদিত ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি : বেগম খালেদা জিয়া’, এবিএম সোহেল রশিদের ‘কিশোরদের জিয়াউর রহমান’ ও ‘কিশোরদের বেগম খালেদা জিয়া’, আবিষ্কার প্রকাশনী এনেছে বাছির জামালের ‘শিশু কিশোরদের জিয়াউর রহমান’। তবে গত সোমবার পর্যন্ত বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্রে ৮৩৩টি নতুন বই জমা পড়েছে। এর মধ্যে রাজনীতিবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ১২টি।

রাজনীতির বই বিক্রি প্রসঙ্গে আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুর রহমান বলেন, বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কম। রাজনীতির বইয়ের প্রতি আরও কম। আমরা বিভিন্ন ক্যাটাগরির বই করতে হয় তাই রাজনীতির বই করি।

এশিয়া পাবলিকেশন্সের বিক্রয়কর্মী আবু সায়েম বলেন, মেলায় পাঠক খুবই কম আসছেন। যারা আসছেন তারা থ্রিলারধর্মী বই বেশি কিনছেন। রাজনীতির বইয়ের ক্রেতা কম।

কারুবাকের বিক্রয়কর্মী ফাহাদ বলেন, রাজনীতির বই বিক্রি হয়। তবে এবার মেলায় ছুটির দিন ছাড়া পাঠকই আসছেন না, বিক্রি হবে কিভাবে?

মাহতাব হোসেন মাসুম বলেন, আমাদের প্রকাশনী থেকে রাজনীতিবিষয়ক বই বেশি প্রকাশ হয়। তাই এখন পর্যন্ত রাজনীতির বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

মেলার চিত্র : এদিকে গতকাল সোমবার মেলায় পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অলস সময় পার করতে হয়েছে বিক্রেতাদের। তবে সন্ধ্যার পর ভিড় কিছুটা বেড়েছিল। অবসর প্রকাশনীর মাসুদ রানা বলেন, কর্মদিবসের দিন বেচাকেনা খুব একটা হয় না। বলা যায় অলস সময় পার করতে হয়।

নতুন বই : গতকাল বইমেলার তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়েছে ১৬৩টি।

মূল মঞ্চের আয়োজন : বিকেল ৩টার দিকে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদুল্লা কায়সা’র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিবলী আজাদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রশান্ত মৃধা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। শিবলী আজাদ বলেন, পূর্ববাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক শহীদুল্লা কায়সার। বামপন্থি রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও লেখকবৃত্তি শহীদুল্লা কায়সারের খ্যাতির মূল কারণ হলেও স্বাধীনতার প্রাক্কালে তার শাহাদাৎবরণ তাকে দিয়েছে অনন্য এক মর্যাদা। রোজনামচা, ভ্রমণকাহিনি ও উপন্যাস মিলিয়ে ৯টি পূর্ণাঙ্গ ও একটি অসমাপ্ত গ্রন্থের লেখক শহীদুল্লা কায়সার মূলত একজন প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক হিসেবেই বেশি পরিচিত। সারেং বৌ (১৯৬২)-এর মাধ্যমে হাতেখড়ি হলেও উপন্যাসে তার দক্ষতার ছাপ প্রথম গ্রন্থেই প্রমাণিত। সংশপ্তক (১৯৬৫) উপন্যাসের প্রকাশ তার ঔপন্যাসিক সক্ষমতার ধারণা দৃঢ় করেছে, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিকের অধিষ্ঠান দিয়েছে। শহীদুল্লা কায়সারের জীবদ্দশায় পূর্ববাংলায় ঘটেছে ব্যাপক সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক ভাঙচুর, পাশাপাশি ঘটেছে সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর। আর সেইসব সামাজিক রূপান্তরের চিহ্ন শহীদুল্লা কায়সারের সাহিত্যে উঠে এসেছে।

প্রশান্ত মৃধা বলেন, শহীদুল্লা কায়সারের সৃষ্টিকর্মকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার অবকাশ রয়েছে। সমকালীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাই তার উপন্যাসের পটভূমি নির্মাণ করেছে। এজন্য প্রায়শই তার রাজনৈতিকসত্তা তার সাহিত্যিকসত্তাকে অতিক্রম করে গেছে।

এ ছাড়াও লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন অনুবাদক ফয়েজ আলম এবং জাভেদ হুসেন।

বিকেল ৪টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি ড. নাঈমা খানম এবং সেলিনা আক্তার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রদীপ মিত্র, সৈয়দ রনো, মাহিনুর মুমু, মো. এনামুল হক এবং ইকবাল আলী। সংগীত পরিবেশন করেন আশরাফ মাহমুদ, সনৎকুমার বিশ^াস, জাবীর ইমাম খান, এ টি এম আশরাফ হোসেন, জামাল দেওয়ান, আশরাফুজ্জামান, মফিজুর রহমান, মো. ওবায়দুর রহমান, সুমন চন্দ্র দাস এবং আহমেদ শাকিল হাসমী।