ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মরিয়া জাপা খুঁজছে সুযোগ

এফ এ শাহেদ
প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বারবার হোঁচট খেয়েও ঘুরে দাঁড়াতে সুযোগ খুঁজছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। এইচ এম এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটির ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়। তবে স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি, দাবি শীর্ষ নেতাদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাপার বারবার ভাঙন ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনীতিতে আগের অবস্থান তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। তবে গণমানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকলে পেক্ষাপট ভিন্ন হতেও পারে।

এদিকে শেখ হাসিনার রাজত্বকালে যে দলটা সংসদে ‘বিরোধী দল’ ছিল, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জনগণ তাদের ভালোভাবেই গ্রহণের কথা ছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে সংসদে বিরোধী দলে থাকাও সাহসের বিষয় ছিল। সংসদীয়ই গণতন্ত্রের নিয়মকানুনের বই খুললে দেখা যায়, সরকারের পতনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রথম দাবিদার হলো বিরোধী দল। তবে এত বছর বিরোধী দলে থেকেও জাপা সেই জায়গা করে নিতে পারেনি। উল্টো চিত্র, এখন তারা মাঠে নামতেই ভয় পায়, পেয়েছে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’-এর তকমা। একই সঙ্গে সপ্তমবারের মতো ভাঙনের পর দেশের প্রয়াত সামরিক শাসকের জাপা এখন অস্তিত্বহীন অবস্থায়।

জাপার একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষমতায় থাকতেই ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর হুদা-মতিনের নেতৃত্বে প্রথমবার ভাগ হয় দলটি। এরপর ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফা এবং ১৯৯৮ সালে কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে তৃতীয় দফা ভাঙে দলটি। এরপর ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে পঞ্চম দফা ভাঙন ঘটে। ষষ্ঠবারের মতো ভাঙন হয় এরশাদের মৃত্যুর পর। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই দলের প্রতিষ্ঠাতা এরশাদ মারা যান। তার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে ২০২৪ সালের ৯ মার্চ ষষ্ঠবারের মতো ভাঙে এরশাদের জাতীয় পার্টি। এরশাদের অসিয়তমতো তার ছোট ভাই জি এম কাদের চেয়ারম্যান হলে বেঁকে বসেন স্ত্রী রওশন এরশাদ। নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করে দলের কমিটি গঠন করেন, যার মহাসচিব করা হয় কাজী মামুনুর রশীদকে। এবার নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে সপ্তমবারের মতো ভাঙল জাপা।

জাপার বিভিন্ন অংশের নেতারা জানান, সব ভেদাভেদ ভুলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় একসঙ্গে কাজ করার উদ্যেগ নিচ্ছে দলটি, যার পেক্ষিতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে তারা। 
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা সাধারণ জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করি। জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাব। জাতীয় পার্টি আবারও তাদের শক্তি সঞ্চয় করে জনকল্যাণে কাজ করবে। মানুষের কল্যাণে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে দল।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান সরকারকে সময় দিতে চাই। আমরা এই সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে।’

জাপার এক পক্ষের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চিরতরে অবসানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ সত্যিকার অর্থেই একটি প্রতিহিংসা ও জিঘাংসামুক্ত নতুন বাংলাদেশ পাবে। যেখানে সব রাজনৈতিক দল সমান অধিকার পাবে। জাতীয় পার্টির সব শেষ হয়ে যায়নি। তারা আবারও মানুষের জন্য ফিরে আসবে।’

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, দেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তবে এখনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা আসছে। কাকরাইল মোড়ে দলের যে কোনো সমাবেশে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয় না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, খুব শিগগির এমন পরিস্থিতি কেটে যাবে। সব দলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জাপা তাদের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্বিগ্নে চালাতে পারবে। আমাদের এখন কাজ হলো দল গোছানো। দলে নতুন নেতৃত্ব আনার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে জাপার প্রতি মানুষের এখনো সমর্থন আছে।

একই সঙ্গে জাপা নেতারা মনে করেন, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ফলাফল খারাপ হলেও নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙেনি। তারা বলেন, আগামীতে যত বাধা আসবে, দল তত এগিয়ে যাবে। যারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন, তারাও জেগে গেছেন। নেতারা সবাই আছেন। তারা নিয়মিত পার্টির কাকরাইল ও বনানী চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যাচ্ছেন। সব দিক বিবেচনায় স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জাপা ঘুরে দাঁড়াবে বলেই বিশ্বাস তাদের।