× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের পেটে দুই জাহাজের টাকা

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। ক্ষমতার অপব্যবহার, একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে বন্দরকে বানিয়েছেন নিজের আখের গোছানোর খাত। পণ্য লোডিং-আনলোডিং থেকে শুরু করে সব খাত থেকে অবৈধভাবে আদায় করছেন অর্থ। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ জাহাজ কেনা প্রকল্প নিয়ে।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) নিজস্ব বহর শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্ষমতা বাড়াতে চীন থেকে নতুন ৬টি জাহাজ কেনার কথা ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ৬টি জাহাজের মধ্যে কিনেছেন মাত্র ৪টি। বাকি দুই জাহাজের টাকা পুরোপুরি মেরে দিয়ে গুছিয়েছেন নিজের আখের। এসব অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক)। চেয়ারম্যানের এসব দুর্নীতির দোসর হিসেবে নাম এসেছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় এ কে আবদুল্লাহ খোকন ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতের নামও। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে দিল খুলে সহযোগিতা করেছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা বন্দর এবং বিএসসির বিভিন্ন প্রকল্পেও করেছেন সীমাহীন দুর্নীতি। যার জেরে এবার ফাঁসতে যাচ্ছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে। 

রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান যখন শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত কেনা হয় মাত্র ৪টি। বাকি দুটি জাহাজের টাকা- অর্থাৎ ৪৮৬ কোটি আত্মসাৎ করেন একাই। শুধু তাই নয়, খোকন সেরনিয়াবাত এবং জাহাঙ্গির হোসেনের সহযোগিতায় মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দেও বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলবসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দুদক। ইতিমধ্যে সংস্থাটির উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে ৪ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তার বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে।  

অনুসন্ধান বলছে, অভিযোগে নাম আসা সাবেক বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত এবং খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন দুজনেই পুলিশের চোখে পলাতক থাকলেও একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরে। তারা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টিভেডরিং ও হ্যান্ডলিং ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দরে একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করেছেন। জাহাজের পাশাপাশি এই সিন্ডিকেট সরকারি খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্যের লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ভয় ও প্রভাবের কারণে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নৌপরিবহন উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খালিদ ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন গত ১৭ বছর ধরে বন্দরটির কার্গো হ্যান্ডলিং ও পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সাবেক খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সহযোগিতায় তিনি এ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। গত বছরের ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও বিএনপি অফিস ভাঙচুরের মামলায় অভিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি আত্মগোপনে থেকে এখনো বন্দর কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জাহাঙ্গীর হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা নেই এবং তার ব্যবসা যোগ্যতার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছে। যারা এখন কাজ পাচ্ছেন না তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’

অন্যদিকে, একাধিক মামলার আসামি হয়ে পলাতক থাকা খোকন সেরনিয়াবাতের প্রতিষ্ঠান এম/এস ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ এখনো সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার ভগ্নিপতি মোস্তাক মিঠু তার হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ‘ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে সরকারি আমদানীকৃত গম ও চাল খালাসের কাজ একচেটিয়াভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা বন্দর নীতিমালার পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও তার প্রতিষ্ঠান গ্রিন এন্টারপ্রাইজের কার্যক্রম মোংলা বন্দরে অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিযোগকারী রূপালী বাংলাদেশকে জানান, গত ১৭ বছর ধরে ভয়-ভীতি, নির্যাতন, গুম ও হত্যার আশঙ্কায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেননি। সরকার পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলে তারা দাবি করেছেন। বরং একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বন্দর অস্থিতিশীল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ (স্মারক নং : ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.০২৭.২৬); ৩১৬(৩) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্পে চুক্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির কপি রূপালী বাংলাদেশের হাতে এসেছে। এসব অভিযোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদক। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. নওশাব আলীকে টিমের দলনেতা করে এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকনকে সদস্য করে একটি টিম গঠনের মাধ্যমে তদন্তের ভার দেওয়া হয়। এই টিমকে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত। তদন্ত টিম দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর বিভিন্ন ওপেন সোর্স থেকে উপাত্ত, সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র, ক্ষেত্রবিশেষে অভ্যন্তরীণ রেকর্ডপত্র এবং ব্যক্তিগত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ৪ পাতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে।


 
রূপালী বাংলাদেশের হাতে আসা ওই প্রতিবেদনের কপিতে জানা যায়, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মুনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে চীন থেকে জাহাজ ক্রয় প্রকল্পে অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসংগতির পাশাপাশি ওই প্রকল্পে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের ক্ষেত্রেও বাজারমূল্যের চেয়ে প্রতি মেট্রিক টনে ৩০-৪০ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করায় কয়েকশ কোটি টাকা ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে চেয়ারম্যানের পরিবারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের আর্থিক সমঝোতার অভিযোগও পেয়েছে। 

শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়েরও প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এই প্রকল্প থেকে অর্জিত অর্থের আংশিক বেনামি সম্পদ ক্রয় এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে ‘মুকুল কনস্ট্রাকশন’-এর মাধ্যমে একাধিক আবাসিক সম্পদ ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, যা মো. সাজিদ হাসান ও তানজিম হাসানের নামে নিবন্ধিত। অপরদিকে সাবেক নৌবাহিনী প্রধানের ভায়রা এবং আওয়ামী লীগের মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুর রহমানের মাধ্যমে কাতারে মার্কেট ক্রয়ের খোঁজ পেয়েছে। উল্লেখ্য, এ ক্ষেত্রে অর্থের উৎস এবং স্থানান্তর প্রক্রিয়ায়ও ব্যাপক অসংগতি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। 

এ ছাড়া মোংলা বন্দর ও ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮.১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পে কাজ বণ্টনে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের প্রমাণও পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এই অনিয়মগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামোর অংশ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি ব্যবহার করে আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে এই অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্পে চুক্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনপূর্বক মানিলন্ডারিং নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে দুদকের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে দলনেতা করে পুনর্গঠিত করা হয় অনুসন্ধান টিম। এই টিমে উপপরিচালক তানজির হাসিব সরকার, সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ এবং সহকারী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিককে সদস্য করা হয়। 

এ বিষয়ে তদন্তে অনেক বিষয় উঠে এসেছে জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান দুদকের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। আমরা  কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অনুমোদনপত্র, আর্থিক বরাদ্দপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, দাখিলকৃত দরপত্র, দরপত্র উন্মুক্ত ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, তুলনামূলক বিবরণী, কার্যাদেশ, চুক্তি, বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র পেয়েছি। শিগগিরই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘একই বিষয়ে আমাদের আরেকটি উইং কাজ করছে। অনুতদন্ত ২ হিসেবে বিষয়গুলোর অনুসন্ধান চালাচ্ছে তারা। আমরা সাধারণত একটি প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব নথি, যেমন টেন্ডার ডকুমেন্ট, মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্ট, বিল-ভাউচার বুঝে নিই। সব বুঝে পেয়েছি। এখন যেহেতু কমিশন নেই, তাই অনুসন্ধান কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেব।’ 
এসব অভিযোগের বিষয়ে রূপালী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিবার বন্দর চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠালেও তার কোনো উত্তর দেননি। 

তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি তদন্তাধীন বিষয়। তাই এটি নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। চেয়ারম্যান মহোদয় কেন ফোন রিসিভ করছেন না তা বলতে পারি না, তবে জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতি সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো আমার টেবিলে আসেনি। আমার হাতে এলে আমি বিস্তারিত বলতে পারব।’ 

Link copied!