× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০১:২৭ এএম

সিলেটে আমন নিয়ে শঙ্কা দ্রুত ধান তুলছেন কৃষক

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০১:২৭ এএম

সিলেটে আমন নিয়ে শঙ্কা  দ্রুত ধান তুলছেন কৃষক

অতীতের চেয়ে এবার সিলেটে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধান পাকতে না পাকতে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা ও ভারি বৃষ্টির শঙ্কা। হাতছানি দিচ্ছে আগাম বন্যাও। এ কারণে কৃষক তড়িঘড়ি করে ধান ঘরে তুলছেন।

ক্ষতির মুখে না পড়তে তারা এরই মধ্যে হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। বাকি এলাকারও প্রায় ৩৫ শতাংশ ধান ঘরে তুলে ফেলেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তাগাদা পেয়ে তড়িঘড়ি করে নামেন মাঠে কৃষকরা। যদিও শ্রমিক সংকটের কারণে খানিকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ধান কাটা।

সিলেট কৃষি অধিদপ্তর বলছে, আর ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ধান পুরোপুরি কাটা শেষ করে ঘরে তোলা সম্ভব হবে। এই সময়ের মধ্যে যাতে বন্যা না হয়Ñ সেই আশায় রয়েছেন কৃষক ও কর্তারা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, এপ্রিল ২০২৬-এ উজানের ভারি বৃষ্টিতে পানি বেড়ে অনেক নিচু হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের শনির হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা করছেন না তারা। এই সময়ের মধ্যে ধান কেটে কৃষক ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী।

সিলেটের কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে সিলেটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৫৮ এবং সুগন্ধি জাতের মধ্যে ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭ চাষ হয়েছে সিলেটে। বর্তমানে সিলেটে ধান পাকলেও ধান কাটার শ্রমিক সংকট, ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং আকস্মিক বজ্রপাত কৃষকদের অন্যতম প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে সিলেট অঞ্চলের চার জেলায়Ñ সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেÑ প্রায় ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৬ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৭ মেট্রিক টন। তবে ভারতের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জসহ সিলেটের কিছু নিচু এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির ধান আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কৃষি অধিদপ্তর জানায়, সরকার এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আগামী ৩ মে থেকে শুরু হবে।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেন, সার এবং ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বড় ধরনের কোনো সংকট হয়নি। পাশাপাশি হাওর এলাকায় ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত কম্বাইন্ড হারভেস্টর বা ধান কাটার মেশিন মজুত রাখা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টির আগেই ধান ঘরে তোলা যায়।

কর্মকর্তারা বলছেন, যদি আগামী কয়েক দিন বড় ধরনের কোনো শিলাবৃষ্টি বা আগাম বন্যা না হয়, তবে সিলেটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আগাম বন্যার শঙ্কার কথা জানানো হলে আমরা সেই তথ্য কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছি। এরই মধ্যে ধান কাটা চলছে পুরোদমে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। তিনি বলেন, কৃষক যাতে ধান কাটায় বিপত্তির সম্মুখীন না হন, সে জন্য আমরা ডিজেল সরবরাহে স্লিপের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু দিনে দু-একজন কৃষক ছাড়া কেউ সেই স্লিপ নিতে আসছেন না। তারা নিশ্চয়ই পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন বলে আসছেন না।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!