ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

জানালেন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হালনাগাদ তালিকা করছে ডিএমপি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৬:১৫ এএম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, রাজধানীতে অপরাধ দমনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। বর্তমানে আগের মতো বড় ধরনের শীর্ষ সন্ত্রাসী নেই, তবে তাদের সহযোগী বা নতুনভাবে অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিগত বিএনপি সরকারের সময় পুলিশের তালিকাভুক্ত যেসব শীর্ষ  সন্ত্রাসী জেলে ছিলেন তাদের অনেকেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জামিনে বেরিয়ে যায়।  এ ছাড়া বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। জামিনে বেরিয়ে আসা ও বিদেশ থেকে দেশে ঢোকার চেষ্টা করা এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর কয়েকজন তাদের পুরোনো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে আগের মতো খুনোখুনিতে জড়ায়। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে প্রতিপক্ষ গ্রুপের অপর সন্ত্রাসীদের কয়েকজন খুন হন। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় ফের আন্ডার ওয়ার্ন্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মাথাচারা দিয়ে উঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নতুন নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপও তৈরি হয়ে খুনোখুনি থেকে শুরু করে সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়ে গতকাল কথা বলেন।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ‘আমাদের মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই তাদের দমন করা হবে’।

তিনি জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নতুন স্থাপিত পুলিশ ক্যাম্পটি মূলত এ এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ক্যাম্পে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গোপন বা প্রকাশ্যে তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ফোর্স বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

মো. সরওয়ার বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে ইতোমধ্যে চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গোপন নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকায় অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে’।

অনেক থানায় পুলিশ মামলা নিতে চায় নাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনো থানায় মামলা না নিলে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট জোনাল সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) কিংবা ডিএমপির ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ শূন্যে নামিয়ে আনতেই এই ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে’।