ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ইংল্যান্ডের নটিংহামের মাটির নিচে মিলল হাজারতম গুহা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম

প্রতœতাত্ত্বিকরা যুক্তরাজ্যের নটিংহাম শহরের মাটির নিচে সন্ধান পেয়েছেন হাজারতম গুহার। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় গুহা নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত এই শহরটিতে দীর্ঘকাল ধরে চলা গবেষণায় এটি একটি বড় মাইলফলক। বেলেপাথরের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এই শহরে গুহা খনন করা তুলনামূলক সহজ। এসব গুহা মধ্যযুগ থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ান আমল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ৮৯৩ সালে ওয়েলস সন্ন্যাসী আসার (অংংবৎ) প্রথম এই গুহাগুলোর কথা নথিবদ্ধ করেন এবং শহরটিকে ‘গুহার স্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। মধ্যযুগে এই প্রকোষ্ঠগুলো কারাগার, গোপন সুড়ঙ্গ, ম্যাল্টিং এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে ভিক্টোরিয়ান যুগে এখানে বিয়ার তৈরি ও মাশরুম চাষ করা হতো। বিশ্বযুদ্ধের সময় এই গুহাগুলোই শহরবাসীর জন্য বোমারু বিমান থেকে বাঁচার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করেছে।

নটিংহাম সিটি কাউন্সিলের প্রতœতাত্ত্বিক স্কট লোম্যাক্স ২০০৮ সাল থেকে এই গুহাগুলোর অফিসিয়াল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেন। সেই সময় ধারণা করা হয়েছিল, শহরটিতে মাত্র ৪২৫টি গুহা রয়েছে। তবে গত কয়েকশ বছরের সম্পত্তির রেকর্ড এবং নথিপত্র ঘেঁটে তিনি শত শত নতুন গুহার সন্ধান পান। গত এক বছরে ৮০টি নতুন গুহা আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ শতকের বালির খনি এবং ১৯ শতকের বিয়ার সেলার অন্যতম।

লোম্যাক্স জানান, এক হাজারতম গুহার এই আবিষ্কার নটিংহামের ভূগর্ভস্থ সম্পদের বিশালতা ও গুরুত্বকে প্রমাণ করে। নগরায়ণ ও উন্নয়নের ভিড়ে অনেক গুহাই হারিয়ে যেতে বসেছিল, তবে এই সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরির ফলে এখন থেকে নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণের সময় এই ঐতিহাসিক গুহাগুলো সংরক্ষণ করা সহজ হবে।

প্রতœতাত্ত্বিকদের মতে, এই এক হাজার গুহা মূলত গত সহ¯্র বছরের জীবন্ত ইতিহাসকে ধারণ করে আছে।