ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কর্মশালায় স্বরাষ্ট্রসচিব

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানব পাচার প্রতিরোধে  আইন করা হয়েছে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৬:১৭ এএম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ এই সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী আইন প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ‘জাস্টিস এন্ড কেয়ার’-এর সহযোগিতায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।  

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী আরও বলেন, ২০০০ সালে গৃহীত জাতিসংঘ কনভেনশন ও এর সম্পূরক প্রোটোকলগুলোর আলোকে বাংলাদেশ সরকার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন এই আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। 

কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচার অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সংস্থাসমূহকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা, সম্পত্তি আটক করা এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো যুগান্তকারী বিধান এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট বা ভিসা জালিয়াতিকেও কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে মূলত অপরাধীদের আর্থিক জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।  ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এর প্রধান নতুন সংযোজন ও পরিবর্তনসমূহ নি¤œরূপ : সমন্বিত আইনি কাঠামো ও পৃথক সংজ্ঞা : পূর্ববর্তী ২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে সঠিকভাবে আলাদা করা হয়নি। নতুন আইনে এ দুটিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য : মানব পাচারের সংজ্ঞাকে জাতিসংঘের টিআইপি প্রোটোকলের সঙ্গে এবং অভিবাসী চোরাচালানকে এসওএম প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। একীভূত বিধান : প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানসংক্রান্ত সব বিধান এই একটি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কঠোরতর দ- ও নতুন অপরাধের অন্তর্ভুক্তি : অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে : সহায়তাকারীর শাস্তি : পাচারকারীকে সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে বা নথি গোপন করে সহায়তা করলে তিন থেকে সাত বছরের কারাদ- এবং সর্বনি¤œ ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যৌন শোষণ : এই উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তর করলে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদ- এবং সর্বনি¤œ ৫০ হাজার  টাকা জরিমানা। অনলাইন প্রতারণা : অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন বা অভিবাসনের নামে প্রতারণা করলে তিন থেকে সাত বছরের কারাদ-ের বিধান যুক্ত হয়েছে।