আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ যদি দলীয় পরিচয় ছাড়া, এককভাবে বা ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিতে চান, তবে তাতে সরকার কোনো বাধা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সরকার দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে।
গতকাল মঙ্গলবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ব্যক্তি হিসেবে একজন যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, সেটা নিয়ে কোনো সংকট হবে না। কারণ সেটা দলীয় পরিচয় হবে না। তবে দলীয় ব্যানারে যেকোনো তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। এই সরকার চায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাক। এর মাঝে কোনো কিছু (দলীয় কার্যক্রম) হলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনতে হবে।
বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর আক্রমণ করেছে। কোথাও মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হতো বা সরকার যদি অ্যালার্ট না হতো তাহলে এই প্রবণতা কিন্তু আরও বেশি হতো। আমরা একটা কথা বারবার বলছি, একটা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আইন ভঙ্গের প্রবণতা থাকে। এটা সব দেশে থাকে, আর আমাদের মতো দেশে তো আরও বেশি থাকে। এটা হলো এক নম্বর। দুই নম্বর হচ্ছে, আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যারা নিষিদ্ধ আছে, আপনারা খেয়াল করবেন, সরকারের এই বদনামও আওয়ামীগোষ্ঠী রূপান্তর করেছে যে, ২০০৯ সালের যে সন্ত্রাস দমন আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মকা- নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফর দ্য টাইম বিয়িং, সেটার যে অধ্যাদেশ ছিল, সেটাকে এই সরকার আইনে পরিণত করেছে। তার মানে সরকার চাইছে তার কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকুক।
এ সময় সীমান্তে ভারতের পুশইনের বিষয়টি বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বলে মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। বাংলাদেশকে চাপে রাখতে তারা এ রকমটি করছে না। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে। আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ফলো করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল এটা। এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি এভাবে মনে করি না যে, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা টেনশন তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচিত হয়ে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল এটা।
তিনি বলেন, তাদের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) একটা রাজনীতি আছে সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে যে সরকার আছে, তার সঙ্গে ভারতের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছি, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চান। দুই দেশই চায় সেটা। সে জন্য আমি মনে করি যে, সংকটটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এটার একটা সমাধান দ্রুত হবে। এটা কোনোভাবেই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাইছেন, এ রকম আমি মনে করি না।
এ সময় দেশে হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে এখনো কোনো কমিটি বা কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ইনফ্যাক্ট এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজে কথা বলেছি। আমি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় আপনাদের যেটা জানিয়েছে, আমি আসলে সেটুকু বলতে পারি এখন আপাতত। কারণ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান সেটা। তার (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) সেই বক্তব্যটা আমি দেখেছি, যখন এই তদন্ত কমিটির কথা এসেছে। তিনি জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে এই অসুস্থতাটা নিয়ে তারা চেষ্টা করছেন, এটাকে কত সফলভাবে ও ভালোভাবে ম্যানেজ করা যায়। সেটা মোটামুটি ম্যানেজড হলেই তারা তদন্ত কমিটি করবেন। তাই মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থানটাই আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম। জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবেও এই খবরটা আবার নেব। তদন্ত কমিটি হয়নি, হলে নিশ্চয়ই আপনারা জানতেন। সরকার কিন্তু এটা বলেনি যে তদন্ত কমিটি করছে না।

