আধুনিক জীবনযাত্রার এক অতিপরিচিত ও অস্বস্তিকর সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে পিঠের ব্যথা বা ঘাড়ের আড়ষ্টতা। একটা সময় ধারণা করা হতো, কেবল বয়সের ভারেই পিঠ ও কোমরে ব্যথা বাড়ে; কিন্তু বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকাল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ পেশাদারদের মধ্যেও মেরুদ-ের সমস্যায় ভোগার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার পেছনে কোনো বড় দুর্ঘটনা বা চোট-আঘাত নয়, বরং আমাদের অজান্তে গড়ে ওঠা দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাস দায়ী। সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে হলে এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা জরুরি।
মেরুদ-ের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা এক জায়গায় বসে থাকা। অফিসের কাজ কিংবা পড়াশোনার খাতিরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে মেরুদ-ের ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, যা পিঠের নিম্নাংশের পেশিকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়। পেশি দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরের পুরো ভরটাই সরাসরি শিরদাঁড়ার ওপর পড়ে এবং তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন ব্যবহার করার সময় সামনের দিকে ঘাড় ঝুঁকিয়ে রাখা বা ‘টেক্সট নেক’ কাঁধ ও ওপরের দিকের মেরুদ-ে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মেরুদ-ের স্বাভাবিক গঠনকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।
দৈনন্দিন আরও কিছু অসচেতনতা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে, যার মধ্যে ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন অন্যতম। অতিরিক্ত উঁচু বালিশ কিংবা খুব নরম গদি ব্যবহার করলে ঘুমানোর সময় মেরুদ- সঠিক সাপোর্ট পায় না, ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরজুড়ে আড়ষ্টতা অনুভূত হয়। আবার পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ বা ভুঁড়ি জমলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে মেরুদ-কে বাড়তি কসরত করতে হয়, যা পিঠের ব্যথার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া মেঝে থেকে ভারী কোনো জিনিস তোলার সময় হাঁটু না ভাঁজ করে সরাসরি কোমর বাঁকিয়ে ঝুঁকে পড়ার ভুল পদ্ধতির কারণে লোয়ার ব্যাক ইনজুরি এবং ‘স্লিপ ডিস্ক’-এর মতো গুরুতর বিপদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও ব্যথামুক্ত জীবনের জন্য বসার ভঙ্গি ঠিক রাখা, ভারী জিনিস তোলার সময় হাঁটু মুড়ে বসা এবং কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে একটু হাঁটাচলা করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন