বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা নতুন এক ভোগান্তির মুখোমুখি। মোবাইল ব্যাংকিং বা রিচার্জ পয়েন্ট থেকে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জের পর গ্রাহকদের মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৪০ ডিজিটের বিশাল আকৃতির টোকেন নম্বর। বিপুলসংখ্যক এই ডিজিট মিটারে ইনপুট দিতে গিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি জুনের শুরু থেকেই প্রিপেইড গ্রাহকরা রিচার্জের পর এই দীর্ঘ টোকেন পেতে শুরু করেছেন। হঠাৎ করে এমন দীর্ঘ টোকেন আসায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে এটি স্থায়ী সমস্যা নয়, সাময়িক। সিস্টেম পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা সবাইকে মোকাবিলা করতে হবে।
সূত্র মতে, সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ বা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক প্রিপেইড মিটারগুলোতে মূলত কয়েকটি ধাপে (স্ল্যাবে) বিদ্যুতের দাম হিসাব করা হয়। নতুন এই মূল্যহার মিটারের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে হালনাগাদ (ট্যারিফ আপডেট) করার জন্যই রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ডিজিটগুলো সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে। মিটারকে নতুন নিয়মে রিপ্রোগ্রামিং করতেই মূলত এই ব্যবস্থা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণ সময়ে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করলে গ্রাহকদের মোবাইলে ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর আসে। কিন্তু বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে ২০ ডিজিটের এমন ৯ থেকে ১২টি টোকেন একসঙ্গে কমা দিয়ে যুক্ত করে পাঠানো হচ্ছে। ফলে ডিজিটসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৮০, ২২০ কিংবা ২৪০ পর্যন্ত। এত ডিজিট মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে গ্রাহকরা নানা ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হচ্ছেন। টানা এতগুলো সংখ্যা মিটারের কি-প্যাডে চাপতে গিয়ে একটি সংখ্যা ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বারবার ভুল চাপার কারণে গ্রাহকদের মিটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘লক’ হয়ে যাচ্ছে।
গ্রাহকরা জানান, পিডিবি বা বিতরণকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাদের আগে থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা বা সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকেই বুঝতে পারছেন না এই বিশাল সংখ্যার কোড কীভাবে মিটারে প্রবেশ করাবেন। অনেকে পুরো ১৮০ বা ২৪০ ডিজিট একসঙ্গে চেপে মিটারে ইনপুট দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে মিটারের স্ক্রিনে ২০ ডিজিটের বেশি দেখায় না।
জানা গেছে, তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ ব্যালান্স শেষ হয়ে গেলে এই টোকেন জটিলতায় অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পিডিবি জানায়, এই ভোগান্তি শুধু সিলেটে নয়; সারা দেশেই পিডিবি, নেসকো, ডেসকোসহ বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার অধীনে থাকা প্রিপেইড মিটার গ্রাহকরা ধাপে ধাপে এই ট্যারিফ আপডেটের মুখোমুখি হচ্ছেন। যেসব গ্রাহকের মিটারে এখনো নতুন মূল্যহার আপডেট হয়নি, তারা আগামীতে রিচার্জ করতে গেলে এমন ১৮০ থেকে ২২০ ডিজিটের টোকেন পাবেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এটি কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়। প্রতিটি মিটারে শুধু একবারই এই দীর্ঘ টোকেন দিয়ে নতুন ট্যারিফ আপডেট করে নিতে হবে। একবার সফলভাবে এই ১৮০ বা ২৪০ ডিজিটের পুরো সিকোয়েন্স মিটারে ইনপুট দেওয়া হয়ে গেলে পরবর্তী রিচার্জ থেকে গ্রাহকরা আবার আগের মতোই সাধারণ ২০ ডিজিটের টোকেন পাবেন। ফলে একবার আপডেট সম্পন্ন হয়ে গেলে এই ভোগান্তি আর থাকবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এই দীর্ঘ টোকেনগুলো মূলত ২০ ডিজিটের কয়েকটি ভাগে বিভক্ত থাকে। কম ভোগান্তিতে রিচার্জ করতে প্রথমে প্রথম ২০টি ডিজিট মিটারে চেপে নিচের সবুজ/লাল বা ‘এন্টার’ (#) বাটন চাপতে হবে। মিটারে ‘এড়ড়ফ’ বা ‘ঈড়হহবপঃ’ লেখা উঠলে, একইভাবে পরবর্তী ২০ ডিজিট চেপে আবার এন্টার চাপতে হবে। এভাবে ধাপে ধাপে সব ২০ ডিজিটের অংশ সফলভাবে প্রবেশ করানোর পরই শুধু মিটারে মূল টাকা বা ব্যালান্স যোগ হবে এবং নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে। মাঝের কোনো অংশ বাদ পড়লে রিচার্জ সফল হবে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সিলেট বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা সার্ভার ডাউন হওয়ার ঘটনা নয়। তিনি বলেন, বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার মিটারে কার্যকর করার জন্য এটি একটি স্বাভাবিক এবং বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। সাময়িকভাবে গ্রাহকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকরা যাতে সহজে বুঝতে পারেন, সে জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সঠিক নিয়ম প্রচারের চেষ্টা চলছে। তবে কোনো গ্রাহকের মিটার লক হয়ে গেলে বা টোকেন প্রবেশ করাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হলে নিকটস্থ পিডিবি অফিসে বা অভিযোগকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন পিডিবির শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন