ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

বনমানুষের হাসি আর মানুষের হাসি একই সূত্রে গাঁথা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

মানুষ ও বনমানুষ বা গ্রেট এপসের হাসির ধরনে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি বছর ধরে মানুষ এবং এই স্তন্যপায়ী প্রাণীরা একইভাবে হেসে আসছে। গবেষকরা বলছেন, মানুষের হাসির আদি উৎস এবং বিবর্তনের ধারা বুঝতে এই আবিষ্কার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের প্রাইমাটোলজিস্ট কিয়ারা ডি গ্রেগরিও এবং তার দল এই চমকপ্রদ গবেষণাটি চালিয়েছেন। তারা চিড়িয়াখানায় থাকা ১৩টি বিভিন্ন প্রজাতির বনমানুষকে সুড়সুড়ি দিয়ে তাদের হাসির শব্দ রেকর্ড করেন। এরপর সেই রেকর্ডিংগুলোর সঙ্গে ঘরে খেলাধুলা ও সুড়সুড়ি পাওয়ার সময় চারজন মানবশিশুর হাসির শব্দের তুলনা করা হয়। এতে দেখা যায়, মানুষ এবং গ্রেট এপসের হাসির শব্দের মধ্যে একটি নিয়মিত ছন্দ ও সময়ের মিল রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, শব্দ ছাড়াই আনন্দ ও খেলার অনুভূতি প্রকাশ করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো হাসি। অন্য অনেক প্রাণীও হাসতে পারে, তবে তাদের হাসির ধরন মানুষের মতো নয়। উদাহরণস্বরূপ, ইঁদুরকে সুড়সুড়ি দিলে তারা অতিস্বনক বা আল্ট্রাসনিক শব্দ করে, যা মানুষের কানের স্বাভাবিক শ্রবণসীমার বাইরে। অন্যদিকে, বিবর্তনের ধারায় মানুষের হাসি অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেক দ্রুতগতির ও জটিল হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন পরিস্থিতি বুঝে হাসির ধরন বদলাতে পারেÑ যেমন সহকর্মীদের সঙ্গে ভদ্রতার হাসি আর বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণখোলা অট্টহাসি। এ কারণেই গবেষক ডি গ্রেগরিও মানুষকে ‘হাসির জাদুকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রাণী যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও লায়ন কলেজের গবেষক ব্রিটানি ফ্লোরকিউইচ এই গবেষণার প্রশংসা করে জানান, প্রাণীদের ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক জীবনের প্রয়োজনেই তাদের হাসির বিবর্তন ঘটেছে। তিনি কুকুর, ঘোড়া বা বিড়ালের মতো অন্যান্য প্রাণীর খেলার ছলের অভিব্যক্তিগুলোকেও একইভাবে রেকর্ড করে পরীক্ষা করার তাগিদ দেন। যেহেতু শব্দের কোনো জীবাশ্ম বা ফসিল থাকে না, তাই বিজ্ঞানীদের এই হাসির শব্দ ট্র্যাক করেই মানুষের ভাষার উৎপত্তির ইতিহাস খুঁজে বের করতে হচ্ছে। হাসির এই উৎস সন্ধান আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এটি মূলত আমাদের মানুষ হিসেবে অনন্য করে তোলার পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্কের গভীর বন্ধনকেই মনে করিয়ে দেয়।

সূত্র : এপি