ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আরেকটি বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। নকআউট পর্বের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে বস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে দুই দলের স্কোর ছিল ১–১। পরে ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে ছিল জার্মানির একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রথমার্ধে প্রায় ৭৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।

বরং ৪২তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে জার্মান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন হুলিও এন্সিসো। ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৫৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ পেলেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জোনাথান টাহ বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় পেনাল্টি বক্সে ফাউলের কারণে গোল বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।

টাইব্রেকারে শুরুতেই ধাক্কা খায় জার্মানি। প্রথম শটে কাই হাভার্টজের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিল। পরে জশুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও নাদিম আমিরি গোল করলেও নিক ভল্টেমাডে ও সাডেন ডেথে জোনাথান টাহ ব্যর্থ হন।

প্যারাগুয়ের হয়ে মাউরিসিও, গুস্তাভো গোমেস ও মাতিয়াস গালারজা প্রথম তিন শটে সফল হন। চতুর্থ শটে আন্তোনিও সানাব্রিয়া এবং পঞ্চম শটে ফাবিয়ান বালবুয়েনা ব্যর্থ হলেও সাডেন ডেথে হোসে কানালের জোরালো শট জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো প্যারাগুয়ে শিবির।

এই জয়ের মাধ্যমে জার্মানির বিপক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জয় পেল প্যারাগুয়ে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে নিজেদের শতভাগ সাফল্যও ধরে রাখল তারা।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে হারের তিক্ত স্বাদ পেল জার্মানি। ২০১৪ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মানি এবার নকআউটে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আর শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারল না।

গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিলের অসাধারণ দুটি সেভ এবং হোসে কানালের জয়সূচক শট বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় অঘটনের জন্ম দিল।