অবশেষে ৫টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর আওতায় সংকটাপন্ন মোট ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্তর্বর্তী সরকারে আমল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ৫ কোম্পিানির প্রতিটি শেয়ারমূল্য অভিহিত মূল্যের নিচে ১-২ টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বেশির ভাগই অনাদায়ী। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯০ শতাংশের অধিক।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অবসায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলোÑ পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, আভিভা ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠান পাঁচটির মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম, যিনি এস আলম নামে পরিচিত। অন্য চারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেলেঙ্কারির দায়ে বহুল আলোচিত ব্যক্তি প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারের হাতে। ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় পর সেখানে তিনি পুলিশের হাতে আটক হন। আওয়ামী লীগ আমলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে অর্থ তুলে নেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এজন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় থাকা পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর শুরুতে ব্যক্তি আমানতকারীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ ঋণই খেলাপি।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম সংকটাপন্ন চারটি প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড বা বিআইএফসি এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।
রেজল্যুশন আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর অবস্থা থেকে পুনরায় কার্যকর বা ভায়াবল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এজন্য তাদের পর্ষদকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত পালন করতে হবে। শর্তপ্রাপ্ত চার প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে অগ্রগতির মাসিক প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেজল্যুশন বিভাগে জমা দিতে হবে।

