ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

খিলগাঁওয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় কলেজছাত্রী গৃহবধূ সানজিদা আক্তার মারিয়ার (১৮) মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন তার স্বামী। তবে পুলিশের তদন্তে সেটি হত্যাকা- বলে উঠে আসে। ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্ত স্বামী সাইফুল ইসলামকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৮ বছর বয়সি সানজিদা আক্তার মারিয়া নামের ওই তরুণী লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ গোড়ানের হাজী মসজিদের সামনের একটি বাসা থেকে গলায় পাটের সুতলি প্যাঁচানো অবস্থায় মারিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, শুরুতে সাইফুল ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তে এটি হত্যাকা- বলে প্রমাণ মেলে। পরে রাতেই ওই তরুণীর স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শনিবার ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে এটিকে আত্মহত্যা বলা হয়। ৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

উপকমিশনার বলেন, রাতেই নিহতের ভাই চান মিয়া খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটির স্বামী হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাইফুলের বাবা-মাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরেই এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারিয়ার ভাই চান মিয়া বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তারা। পরে মারিয়ার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। সে অনুযায়ী তারা বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের পাশের বারান্দায় মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে সানজিদা আক্তার মারিয়া ও সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। তিনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসারের খরচে সহায়তা করতেন। বিয়ের পর গত প্রায় আট মাস ধরে দক্ষিণ গোড়ানের ওই বাসায় স্বামী সাইফুলের সঙ্গে বসবাস করছিলেন মারিয়া। মারিয়ার বাবার নাম মো. মহসিন। তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায়।

বাংলামোটরে গাছ থেকে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার : রাজধানীর শাহবাগের বাংলামোটর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাসার গাছ থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বয়স আনুমানিক ২৮ বছর।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল শনিবার সকালের দিকে খবর পেয়ে ২৫ নম্বর বাংলামোটরের কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে সাইফুল ইসলামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে যাই। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে গলায় ইন্টারনেটের তার দিয়ে প্যাঁচানো ওই নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা এখনো ওই নারীর নাম-পরিচয় জানতে পারিনি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় জানার জন্য ইতিমধ্যেই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, প্রাথমিকভাবে সে বিষয়ে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।