ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেপথ্যে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৩:০৭ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের শিক্ষার মান ক্ষুণœ হয় এমন কোনো দাবি বা অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কিছু স্পটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তার পেছনে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু মহলের ইন্ধন রয়েছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকে প্রকৃত পরীক্ষার্থী বা ছাত্র-ছাত্রীও নন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জাতীয়ভাবে একটি শিক্ষিত, মেধাভিত্তিক ও শক্তিশালী জাতি গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ আপসহীন। নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের ‘অটো পাস’ বা ঢালাওভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি স্পষ্ট করেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ত্রুটি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের যথোপযুক্ত নম্বর (ক্রেডিট) প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ছড়ানো ছবি ও ভিডিওগুলোকে ‘ডিইনফরমেশন’ বা অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেন।

জুলাই-আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার পতনের প্রাক্কালে হাসপাতাল থেকে বহু নথিপত্র গায়েব, চিকিৎসায় বাধা এবং লাশ গুম করার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী শহিদের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ বলা হলেও সরকারের ধারণা এই সংখ্যা ২০০০-এর অধিক। বর্তমানে ডিএনএ টেস্ট ও গণকবর অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে নথিবদ্ধ শহিদের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি শহিদ ও আহতদের সুনির্দিষ্ট গেজেট ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আহতদের ক, খ ও গÑ এই তিন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে আরব আমিরাতে (ইউএই) একজন এবং ভারতে তিনজনসহ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শহিদ ওসমান শরীফ হাদি হত্যা মামলার আসামিরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ও ওয়ারেন্টের কপি পাঠানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী সে দেশে আটক আসামিদেরও দ্রুত ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় আদালতে বেআইনি অনুপ্রবেশ মামলার কারণে ভারত কিছুটা সময় নিলেও চুক্তি অনুযায়ী মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেও আসামিদের প্রত্যর্পণ সম্ভব।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে।