ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

বললেন নাহিদ ইসলাম

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সরকার

রংপুর ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৩:১৮ এএম

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না করে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তারা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। এ সময় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকারকে বলব, মুজিব সংবিধানের পাহারাদার হবেন না, জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হন।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের দাবি ছিল তিনটি। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আমরা দেখেছি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিচার ও সংস্কার বাংলাদেশের জনগণ পায়নি এখনো। বিচারে আবু সাঈদের যে মামলার রায়, সেই মামলার রায় আমরা পেয়েছি। কিন্তু সেই মামলার রায় কিন্তু এখনো কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, গণভোটে সত্তর পার্সেন্ট মানুষ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, গণভোটের রায় তারা কার্যকর করছে না। জুলাই সনদ তারা মুখে মুখে কার্যকর করবে বলছে। এটা তাদের কেবলই মৌখিক প্রতারণা। তারা ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা বলেছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন করবে, সেটি তারা করেনি।

জুলাই হত্যা মামলার রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকগুলো মামলার রায় হয়েছে। এখন বাংলাদেশের মানুষ সেই রায়গুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চায়। শহিদ আবু সাঈদের হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে সরকার যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করে। অন্যান্য মামলার বিচারকাজও দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা উচিত। এতে আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ন্যায়বিচার পাবেন। সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেÑ মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিকার অর্থে সংস্কার করতে চায়, তাহলে আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছি এই প্রশ্নে। সংস্কার, বিচার, ফ্যাসিবাবাদের বিলুপ্তি, বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি প্রশ্নে আমরা সরকারকে বিরোধী দল হিসেবে দেখি না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের পক্ষে, রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের এক কাতারে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু আমরা সেরকম কোনো আলামত সরকারের কোনো আচরণে দেখতে পাচ্ছি না। ফলে জুলাই সনদ গণভোটের রায়ের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের নোট অব ডিসেন্টের আলোকে বাস্তবায়ন করলে সেখানে আমাদের কোনো সহযোগিতা তো থাকবেই না, আমাদের কোনো অংশগ্রহণও থাকবে না।’

এদিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শেখ মুজিব ভারতের প্রেসক্রিপশনে দিল্লির দাদাবাবুদের খুশি করার জন্য সংবিধান বানিয়েছিলেন। যে সংবিধানের কারণে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছিল, যে সংবিধানের জন্য অসংখ্য তরুণ যোদ্ধার জেলের প্রকোষ্ঠে জীবন চলে গিয়েছিল, সেই সংবিধানকে আমরা সংশোধন করে একটি নতুন সোনার বাংলাদেশ গড়ব। তাই সরকারকে বলব, মুজিব সংবিধানের পাহারাদার হবেন না, জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হন।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ‘জনগণের দাবি নিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় গেলে আমাদের অবাঞ্ছিত করা হচ্ছে, কেউ ডিম নিয়ে, কেউ ইট-পাটকেল নিয়ে রেডি হচ্ছে, কোথাও বৈদ্যুতিক তার কেটে দেওয়া হচ্ছে। আজকে তারা আমাদের প্রতিহত করতে চায়।’

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।