হামের উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও পাঁচজন মারা গেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭১৫ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৮১০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত এই পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সি মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৫০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ১৫০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১৮৭। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৫ হাজার ১৯৪ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৭১৭ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে এক লাখ এক হাজার ৫৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গে যে পাঁচজন মারা গেছে, তাদের তিনজন ঢাকা বিভাগের। একজন চট্টগ্রাম বিভাগের। অন্যজন খুলনা বিভাগের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি।

