× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৫:৩০ এএম

মধু ও পরাগায়নে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৫:৩০ এএম

মধু ও পরাগায়নে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মৌ চাষ এখন এক অনন্য সম্ভাবনার নাম। স্বল্প পুঁজি আর সামান্য শ্রম বিনিয়োগ করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্যবিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে এটি যাদুর কাঠির মতো কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মৌমাছিকে এখন আর কেবল বনের পতঙ্গ ভাবা হয় না, বরং এটি একটি লাভজনক কুটির শিল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌ চাষের মাধ্যমে যেমন খাঁটি মধুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি ফসলের ফলন বৃদ্ধিতেও এটি রাখছে অভাবনীয় ভূমিকা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রাজশাহীর কৃষি অফিসার পাপিয়া রহমান মৌরী

প্রথাগত আহরণ বনাম আধুনিক মৌ চাষ

একটা সময় ছিল যখন মানুষ কেবল সুন্দরবন বা বনাঞ্চলের গাছের ডাল ও কোটর থেকে মধু সংগ্রহ করত। সেই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌয়ালদের যেমন প্রাণের ঝুঁকি থাকত, তেমনি হাজার হাজার মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যেত। কিন্তু বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন বা ‘এপি কালচার’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌ কলোনি সংগ্রহ করে বা কৃত্রিমভাবে রানী মৌমাছি উৎপাদনের মাধ্যমে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রতিপালন করা হয়, যা পরিবেশ ও মৌমাছি উভয়ের জন্যই নিরাপদ।

মৌমাছির সামাজিক জীবন ও বিচিত্র স্বভাব

মৌমাছি মূলত একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সামাজিক পতঙ্গ। একটি কলোনিতে রানী, শ্রমিক ও পুরুষ মৌমাছি মিলেমিশে বসবাস করে। এরা প্রকৃতি থেকে ফুলের নেক্টার এবং পোলেন সংগ্রহ করে নিজেদের বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করে। বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত এই মিষ্টি রসই পরবর্তীতে আমাদের জন্য মধু হিসেবে জমা হয়। মজার ব্যাপার হলো, অল্প বয়সের মৌমাছির প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এরা পোলেন বা পরাগ রেণু ব্যবহার করে, যা তাদের শারীরিক গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

অ্যাপিস মেলিফেরা : চাষিদের প্রথম পছন্দ

পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির মৌমাছি থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘অ্যাপিস মেলিফেরা’ প্রজাতির চাষাবাদ সবচেয়ে লাভজনক। মূলত ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি হওয়া এই মৌমাছিগুলো আকারে বেশ বড় এবং স্বভাবে শান্ত প্রকৃতির হয়। এদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এরা সহজে বাক্স ছেড়ে চলে যায় না এবং বছরে প্রতিটি কলোনি থেকে অন্তত ৫০ কেজি পর্যন্ত মধু উৎপাদন সম্ভব। অধিক উৎপাদন ক্ষমতার কারণেই বাণিজ্যিক মৌ চাষে এই প্রজাতিটি বিপ্লব ঘটিয়েছে।

পরাগায়ন ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি

মৌ চাষের সবচেয়ে বড় উপকারিতা কেবল মধু উৎপাদন নয়, বরং ফসলের পরাগায়ন। মৌমাছি যখন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ঘুরে বেড়ায়, তখন অজান্তেই তারা ফসলের সফল পরাগায়ন ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়িত ফসলের ফলন সাধারণের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়। সরিষা, লিচু বা অন্যান্য ফলদ বৃক্ষের মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার স্থাপনের ফলে কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন, যা জাতীয় জিডিপিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

চাষকালীন সতর্কতা ও পরিবেশ রক্ষা

মৌ চাষের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন, আর তা হলো বালাইনাশকের ব্যবহার। মৌবাক্সের আশপাশের জমিতে যদি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়, তবে তা অবশ্যই বিকেলের পর বা সন্ধ্যায় করা উচিত। দিনের আলোতে স্প্রে করলে মৌমাছিরা বিষক্রিয়ায় মারা যেতে পারে, যা খামারের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এ ছাড়া বাধ্যতামূলক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৌমাছির খাদ্যের উৎস নিশ্চিত করাও এই চাষের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সমৃদ্ধির পথে মৌ চাষের সুফল

মৌ চাষের সুফল বহুমুখী। নিয়মিত বিশুদ্ধ মধু সেবনের মাধ্যমে যেমন জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি মোম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কুটির শিল্পের নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। দেশজ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা আনা এবং বেকারত্বের অভিশাপ দূর করতে মৌচাষ এখন বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ যেমন বনজ সম্পদ রক্ষা করছে, তেমনি নিশ্চিত করছে এক নিরাপদ ও পুষ্টিকর ভবিষ্যৎ। 

লেখক : মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার

রাজশাহী

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!