× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ড. ফোরকান আলী

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য হবে সম্পদ

ড. ফোরকান আলী

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য হবে সম্পদ

বাংলাদেশ পৃথিবীর জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ফলে জনসংখ্যার সঙ্গে বেড়ে চলেছে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার সমস্যাও। বর্তমানে বাংলদেশে বর্জ্য সৃষ্টির পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় ২২.৪ মিলিয়ন টন, অর্থাৎ মাথাপিছু ১৫০ কিলোগ্রাম। এ হার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে আবর্জনা সংগ্রহে পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুনর্ব্যবহার ও নিষ্কাশনের সমন্বিত ব্যবস্থা। বর্জ্য পদার্থের আধুনিক ও নিরাপদ অপসারণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা বাংলাদেশের অন্যতম পরিবেশগত সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্জ্য নিষ্কাশনের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই।

ফলে বর্জ্য পদার্থকে রাস্তার পাশে এখানে-সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়, এবং তা পচে-গলে বাতাসকে মারাত্মক দূষিত করে।  বর্ষা মৌসুমে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ডাস্টবিন উপচে কঠিন বর্জ্য রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অচল করে দেয়। বর্তমানে সময়ে কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং আধুনিক জীবনযাপনে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেটজাত খাবারের কৌটার ব্যবহারে পুরো বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার পরিধি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ দূষিত হওয়ার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। শিল্প বর্জ্য, মেডিকেল বর্জ্য, প্রাণীজ বর্জ্যসহ বিভিন্ন রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে বায়ু, পানি ইত্যাদি। এর প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। পড়ছে জলবায়ুর ওপর প্রতিকূল প্রভাব। জলবায়ু পরিবর্তনে বিভিন্ন প্রাণীর জটিল ও কঠিন রোগ দেখা দিচ্ছে। পরিবেশের ওপর জলবায়ুর প্রভাবের জন্য ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত, খাদ্যাভাবজনিত রোগসহ নানা জটিল ও অপরিচিত রোগ হয়ে থাকে। বেড়ে গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমাদের চারপাশের পরিবেশের এ বিপর্যয়ের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে বায়ুদূষণ। এটি দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে ২২ শতাংশ মানুষ বাতাসে ভাসমান বস্তুকণা ও ৩০ শতাংশ মানুষ জ্বালানি সংশ্লিষ্ট দূষণের শিকার। 

বিশ্ব পরিবেশের যেমন দ্রুত অবনতি হচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে এ অবনতি হয়েছে আরও দ্রুত। আমাদের দেশ বায়ুদূষণের বড় কারণ সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব। বায়ুদূষণ ছাড়াও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা মাটির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করছে। যা ভূমিক্ষয়সহ মাটির গুণগত পরিবর্তন ঘটায় ও এর বন্ধনকে দুর্বল করে। এতে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্যও বিনষ্ট হয়। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস করতে পারে। অধিক পুষ্টির ফলে জলজ শ্যাওলার অত্যধিক বৃদ্ধি ও পরবর্তী সময়ে মৃত্যু ঘটে, ব্যাকটেরিয়া এসব মৃত শ্যাওলার পচন ঘটাতে অত্যধিক পরিমাণে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে। এতে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। শিল্প ও পৌর বর্জ্য বাংলাদেশের নদী ও জলাশয়গুলোকেও দূষিত করছে। ইদানীংকালে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে পশুবিজ্ঞানিদের চিন্তার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুসম্পদ বর্জ্য।

একটি গরু দৈনিক প্রায় ১২-১৫ কেজি, ছাগল ও ভেড়া ১.৫-২ কেজি, লেয়ার ১০০-১৫০ গ্রাম, ব্রয়লার ১০০-২০০ গ্রাম বর্জ্য উৎপন্ন করে থাকে। পশুসম্পদ বর্জ্যরে উৎসগুলো হচ্ছে গবাদিপশু উৎপাদিত গোবর, খামারের বর্জ্য খাদ্য, বর্জ্য পানি, গোবরের অপরিকল্পিত সংরক্ষণ ও মৃত পশুর সমাধি থেকে উৎপন্ন দুর্গন্ধ ইত্যাদি। গবাদি পশুর উৎপাদিত গোবর যদি খামারে ফেলে রাখা হয় তবে এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব ও গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে এই পশুসম্পদ বর্জ্য। পশুসম্পদ বর্জ্য থেকে উৎপন্ন দুর্গন্ধ মানুষ ও পশুপাখির বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাবার পানিতে উচ্চতর ঘনত্বের নাইট্রেটের উপস্থিতি মানুষ ও পশুপাখির স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। অতিরিক্ত নাইট্রেটযুক্ত খাদ্য ও পানি গ্রহণের ফলে শরীরে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। নাইট্রেট যুক্ত পানি খামার থেকে পুকুরে প্রবেশ করলে তা মাছ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পরিবেশে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পশুসম্পদ থেকে উৎপাদিত গোবর। পশুসম্পদ বর্জ্য থেকে উৎপাদিত মিথেন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য ১৫ শতাংশ দায়ী। একটি গবাদি পশু বছরে প্রায় ৭০-১২০ কেজি মিথেন নির্গমন করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ২৩ গুণ বেশি দায়ী। বর্তমানে উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্জ্যরে পূর্ণ ব্যবহার। পশুসম্পদ বর্জ্য থেকেই আবার পশুপাখির খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট মাত্রার পর পশুসম্পদ বর্জ্য থেকে উৎপাদিত পশুখাদ্যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না। যেমনÑ গবাদিপশুর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পোলট্রি লিটার খাবার সহজেই গ্রহণ করতে পারে। পোলট্রি বর্জ্য থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত আমিষ গ্রহণ গাভীর দুধ উৎপাদনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, এবং তা একইসঙ্গে নতুন খাদ্যে আমিষের চাহিদা কমায়, ফলে খরচ হ্রাস পায়।

গ্রামীণ পরিবেশে জ্বালানি ও শক্তির সহজতম উৎস হচ্ছে বায়োগ্যাস প্লান্ট। বাংলাদেশে উৎপাদিত মোট পশুসম্পদ বর্জ্যরে প্রায় ৯০ শতাংশই মানুষ জ্বালানির কাজে ব্যবহার করছে। পশুসম্পদ বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা কেবলমাত্র পশুবিজ্ঞানীদের দ্বারাই সম্ভব। আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পশুসম্পদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পশুবিজ্ঞানীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের উৎপাদিত পদ্ধতিতে পশুসম্পদ বর্জ্যরে ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হচ্ছে। এ খাতে পশুবিজ্ঞানীদের দেওয়া গবেষণা অনুদান পশুসম্পদ বর্জ্যরে আধুনিক ও নিরাপদ অপসারণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে ও দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামকে পরিছন্ন, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করবে। আশার কথা, এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সি ঢাকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সোশ্যাল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ ওয়েস্ট কনসার্ন, বাসাবাড়ি পর্যায়ে ব্যবস্থাপনার কাজ করছে। ইউনিসেফ সিটি করপোরেশন ও শহরাঞ্চলে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছে। এতদসত্ত্বেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মনোন্নয়নে, বিশেষত শিল্পকারখানার বর্জ্য ও হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসব উদ্যোগ নিতান্তই অপ্রতুল। তাই নবায়নযোগ্য জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে আগ্রহ তৈরি করা উচিত। রাস্তার পাশে ডাস্টবিনগুলো ময়লা-আবর্জনায় উপচানো থাকে। তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরিবেশ নোংরা হয়ে থাকে। পৌরকর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ময়লা সরিয়ে শহরের আশপাশের খাল বা খানাখন্দে ফেলে রাখে। সেখান থেকে নতুন করে আরও বিশদ আকারে জীবাণু ও দুর্গন্ধ ছড়ায়।

বর্জ্য নিয়ে দুটো কথা চালু আছে। প্রথমটি হলোÑ আজকের বর্জ্য আগামীকালের সম্পদ। আর দ্বিতীয়টি হলোÑ আবর্জনাই নগদ অর্থ। তারই প্রমাণ পাওয়া যায় উন্নত দেশগুলোতে। উদাহরণস্বরূপ, সুইডেন ও নরওয়েতে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহারযোগ্য অন্য বস্তুতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, এবং এ ব্যবসাটি সেখানে অত্যন্ত লাভজনক। একে ঘিরে তারা অন্য দেশ থেকেও বর্জ্য আমদানি করছে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সময়ের দাবি। মানুষসৃষ্ট বর্জ্য জলবায়ুর ওপর যে আঘাত এনেছে তা নিয়ে সারা পৃথিবী উদ্বিগ্ন। এক তথ্য থেকে পাওয়া যায়, ১৯৫০ সালে মানববসতির মাত্র ৩০ ভাগ ছিল নগরে। আর অতি অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ নগরে বাস করবে, এমন ধারণা বিশেষজ্ঞদের। হয়তো এ কারণেই অতি দ্রুত নগরের বিস্তৃতি ঘটছে। রাজধানী ঢাকা আজ মানুষের পদভারে ক্লান্ত। একে সচল রাখার অন্যতম ব্যবস্থা হল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এ থেকে পিছিয়ে থাকার উপায় নেই। এজন্য প্রয়োজন অধিকতর দক্ষ জনবল। পরিচ্ছন্ন কর্মী ও গাড়ি চালকের জন্য দরকার প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ পোশাক। বাতাসে যাতে রোগজীবাণু ছড়াতে না পারে এর জন্য প্রয়োজন কাভার্ড ভ্যান। আরও প্রয়োজন মশা, মাছি ও কীটপতঙ্গ থেকে এ বর্জ্য নিরাপদে রাখা।

পয়ঃমল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক, সোকওয়েল স্থাপন জরুরি। আর এ জরুরি কাজটি করতে হবে বাড়ির মালিকদের দিয়ে কঠোরভাবে। পয়ঃমলের মতো আরও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য হচ্ছে, কলকারখানার কেমিক্যাল বর্জ্য। এ বর্জ্যও উন্মুক্ত স্থানে বা ডোবায় ফেলা উচিত নয়। কারণ এ বর্জ্য বিষাক্ত, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর সংস্পর্শে এলে মানুষ রোগাক্রান্ত হয়। তাকে মাটির গর্তে ফেলে পরিশোধন প্রয়োজন। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি ও কঠোরতা অবলম্বন দরকার।

রাজধানীতে কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ উলে¬খযোগ্য বর্জ্য হচ্ছে গার্বেজ, যা কাগজ, কাপড়, লতাপাতা, তরকারির খোসা থেকে উৎপন্ন। নগরীতে এ বর্জ্যরে পরিমাণ বেশি। তথ্য থেকে পাওয়া যায়, এ বর্জ্যরে মাথাপিছু পরিমাণ দৈনিক ১৫-০.২৫ কিলোগ্রাম। এ বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে পরিশোধন হবে অন্যতম কাজ। রাজধানী ঢাকায় উঁচু ঘেরা দেওয়া ডাম্পিং স্টেশন দরকার। ডাম্পিং স্টেশনে কঠিন, অপচনশীল দ্রব্যসামগ্রী আলাদা করে নেয়া উত্তম। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পরিশোধনের জন্য নির্মাণ করতে হবে আলাদা ডাম্পিং স্টেশন। আর প্লাস্টিক সামগ্রীর মতো যেসব বর্জ্য রিসাইক্লিং করা সম্ভব তাকে আলাদা রাখা। গার্বেজ বর্জ্য যেহেতু কম ঝুঁকিপূর্ণ, এগুলোর জন্যও প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা। তৈরি করা প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত ডাম্পিং স্টেশন। যাতে গার্বেজ বর্জ্য সহজে পচবে, সার হবে। গার্বেজ বর্জ্য থেকে প্রাপ্ত কম্পোজ্ড সার চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব।

আরও এক প্রকার তরল বর্জ্য হল সালেজ, যা রান্নাঘর, বাথরুমে ব্যবহৃত পানি, ধোয়া-মোছার পানি। দৈনিক মাথাপিছু এর পরিমাণ ৯০-১৩৫ লিটার। এ বর্জ্য কখনো সেপটিক ট্যাঙ্ক, সোকওয়েল, ইন্সপেকশন পিটে ফেলা উচিত নয়। এ বর্জ্যরে সংযোগ দিতে হয় মেইন মাস্টার ড্রেন বা স্যুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে। এ বর্জ্য নিষ্কাশন লাইন বা মাস্টার ড্রেনের মূল কাজ হচ্ছে স্টর্ম ওয়াটার বহন করা। আরও কিছু বর্জ্য রয়েছে যেগুলো পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে তা হল, ট্যানারি ও নৌপথের বর্জ্য। ট্যানারির বর্জ্য নদীতে ফেলা উচিত নয়, নদীতে মাস্টার ড্রেন, স্যুয়ারেজ লাইনে সংযোগ দেওয়াও সমীচীন নয়।

এ কাজটি আমরা করেছি বলে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ আমাদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। খানিক বৃষ্টি হলেই নগরী হবে জলাবদ্ধ, অস্বাস্থ্যকর। আসন্ন বৃষ্টি মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই স্টর্ম ওয়াটার লাইনের ভারি তলানি অপসারণ প্রয়োজন। বক্স কালভার্টগুলোকে একশ’ ফুট পরপর পিট আকারে খোলা রাখা দরকার। যার মাধ্যমে প্রতিদিন বর্জ্য অপসারণ করা যায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আরও একটি জরুরি কাজ নগরবাসীর চিন্তা-চেতনাকে সমৃদ্ধ করা, তাদের সচেতন করা। নগরবাসী যেন কাগজ, ফলমূলের খোসা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস যত্রতত্র না ফেলে। রাস্তাঘাট অপরিচ্ছন্ন না করে এ সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ কার্যক্রমে নারী-পুরুষের জন্য নিতে হবে সমান উদ্যোগ। তবেই উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন সহজ হবে, সার্থক হবে। নগরী হবে দৃষ্টিনন্দন, স্বাচ্ছন্দ্যময়। আর পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য হবে দেশের সম্পদ।

লেখক : গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!