বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ২ ফেব্রুয়ারি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই দিনে চলমান ভাষা আন্দোলন গতি লাভ করে। ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে তীব্র আন্দোলনের সূচনা হয় এইদিনে তা আরও তীব্রতা পায়। সাধারণ ধর্মঘট, প্রতিবাদ সভা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি আরও বেগবান করে তোলে। বিস্তৃত হতে শুরু করে ভাষা আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি। প্রতিদিনই চলছিল ছাত্র-জনতার নানামুখী কর্মসূচি। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আহূত ছাত্র সমাবেশের প্রচার চালানো হয় এই ২ ফেব্রুয়ারিতেই।
‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে মুখর তখন চারদিক। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হলে হলে তখনকার আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তৃতা এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন। এই সংগ্রাম পরিষদ গঠনের কর্মিসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল রাজবন্দিদের মুক্তি। এই দাবিতে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। এর পাশাপাশি কারান্তরীণ বাম ঘরানার নেতাদের ছাড়িয়ে আনার দাবিও জোরালো হতে শুরু করে। সব মিলিয়ে এই দিন থেকেই তীব্রতর হতে থাকে ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
শাসক গোষ্ঠী বুঝে যায়, এই ভাষাসংগ্রামীদের কিছুতেই রোখা যাবে না। তাই তারা দমননীতি আরও কঠোর করে।
তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ভাষার সংগ্রাম একদিনে পূর্ণতা পায়নি, ধীরে ধীরে এটি সংগঠিত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষায় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন