× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

অধিকারের প্রতিবেদন

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ মাসে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ মাসে  আইনশৃঙ্খলার অবনতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর গত প্রায় দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকা-, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণপিটুনি ও নারী নির্যাতনের চিত্র। ওই সময়ে কয়েকটি আলোচিত হত্যাকা- জনমনে নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে।

এসব ঘটনার মধ্যে রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকা- দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া গুলশানের গুদারাঘাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল আহসান সাধন এবং পল্লবীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারা যান থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া। পশ্চিম তেজতুরীবাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকা- নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের গত ১৬ মাসে দেশে ৪৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গত এক বছরে নিহত হয়েছেন ৩৩ জন। মাসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৯টি ঘটনা ঘটেছে গত বছর সেপ্টেম্বরে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ১২ জন নিহত হন।

রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৩৮ মৃত্যু

অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনি সহিংসতার কারণে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ২৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার ৮৮৫ নারী ও কন্যাশিশু

এই সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ৮৮৫ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০২ জন নারী ও ৫০৮ জন কন্যাশিশু। বাকি ৭৫ জনের বয়স জানা যায়নি। ৩০২ নারীর মধ্যে ৮০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে ৫০৮ কন্যাশিশুর মধ্যে ৫৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ২ জন আত্মহত্যা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সীমান্তে নিহত ৩২ বাংলাদেশি

প্রতিবেদনে সীমান্ত সহিংসতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছর সীমান্তে ৩২ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এর মধ্যে ২২ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

গণপিটুনিতে নিহত ১২৫

একই সময়ে দেশে গণপিটুনির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে সারা দেশে ১২৫ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুরি, ছিনতাই বা অপহরণের সন্দেহে জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। অনেক ঘটনায় মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও কিশোররাও এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে।

অধিকার বলেছে, ২০২৫ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যৌথ বাহিনী মাঠে নামালেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। সংস্থাটির মতে, এই সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের অভিযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং গণপিটুনির ঘটনা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আইনের শাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা গেলে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক।

এ বিষয়ে ‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা  প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও পুরোনো শত্রুতার কারণে হত্যাকা- বাড়ছে।  যে কারণেই অপরাধ ঘটুক না কেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ জোরদার না হয় তাহলে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব না। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

‎নারী ও শিশু আইনের প্রয়োগ আরও অনেক বেশি জোরদার এবং দ্রুত তোমার সময়ে বিচার কার্যক্রম করা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে গণসচেতনতামূলক কাজ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে অপরাধ কমিয়ে আনা যেতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!