× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মাইনুল হক ভূঁইয়া

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

ডিএসসিসিতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না

মাইনুল হক ভূঁইয়া

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদ  নিয়ে বিতর্ক থামছেই না

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদ নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। ২১ বছর পেরিয়ে ২২ বছরে গড়ালেও এই বিতর্ক সমানেই চলছে। এটি নিঃসন্দেহে ডিএসসিসির প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার এক বাজে দৃষ্টান্ত। এবার খোদ ডিএসসিসির অভ্যন্তরীণ তদন্তেই বিষয়টি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত নিয়ম-রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে ২১ বছর ধরে কাজ করছেন মো. সিরাজুল ইসলাম। শুধুু আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে নগর পরিকল্পনা বিভাগে অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা থাকলেও সিরাজুল ইসলামকে সরানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসি প্রচলিত সব বিধিবিধান ভেঙে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও কেউ কখনো টুঁ শব্দটি করেনি। সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুই আওয়ামী মেয়রের অদৃশ্য ইশারায় তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

কিন্তু এর পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসের শাসনামলেও বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্রও মাথা ঘামানো হয়নি। এ নিয়ে রূপালী বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিস্তর লেখালেখি হলেও তৎকালীন সরকার এবং ডিএসসিসি এটিকে আমলেই নেয়নি। তবে আশার বিষয়, বর্তমান সরকারের সময়ে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসতে যাচ্ছে। গত ১৫ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসন অধিশাখার এক চিঠিতে আগামী ৬ এপ্রিল বেলা ১১টায় সিরাজুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ড. মো. মনিরুল ইসলামকে।  বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি মূলত একজন স্থপতি। ইউক্রেনের খারকভ ইনস্টিটিউটে স্থাপত্য বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন তিনি।

১৯৯৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি স্থপতি হিসেবে যোগ নেন। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ পদের জন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক এবং ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলামের এ দুটির একটিও নেই। না তিনি স্নাতক, না অভিজ্ঞতা। তিনি স্রেফ ডিপ্লোমাধারী এবং ডিপ্লোমা করার মাত্র ৩ বছর ৫ মাস ২১ দিনের মাথায় আবেদন করেন। তবু তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনের আশীর্বাদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও তপশিল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তাকে স্থপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালে ডিসিসির এক দাপ্তরিক চিঠিতে এক ধাপ লাফ দিয়ে তাকে প্রধান নগর পকিল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০১১ সালে ডিসিসি বিভাজিত হয়ে দুই ভাগ হয়ে গেলে সংগত কারণেই দাপ্তরিক চিঠিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, ২১ বছর ধরে কোনো দাপ্তরিক আদেশ ছাড়াই তিনি অবলীলায় প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে মেয়র বদল হয়ে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস আসেন। তবু তার চেয়ার নড়েনি। রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানকালীন নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিরাজুল ইসলামকে একের পর এক তিন প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেসব প্রকল্পের ব্যয়-বরাদ্দ ছিল অন্তত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ থাকলেও তার টিকিটিও স্পর্শ করা যায়নি। শুধু নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্প থেকেই কমপক্ষে ৩৮ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবু তিনি অধরাই থেকে গেছেন বরাবর। কারণ, দুই মেয়রের আশ্রয়-প্রশ্রয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনি ছিলেন বহাল তবিয়তে।

আরও অভিযোগ পাওয়া যায় যে, প্রকল্প প্রণয়নের নামে সিরাজুল ইসলাম নানা নয়-ছয়ের আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি কখনো কখনো তিনি জাল-জালিয়াতি করতেও পিছপা হননি। ছাত্রলীগের নেতা সাজিয়ে একটি প্রকল্পে তিনি প্রকৌশলী পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছেন। ডিএসসিসি প্রশাসন তবু কোনো রকম ভ্রুক্ষেপ করেনি। কিন্তু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ পদটি নিয়ে নানা চক্রান্ত হয়েছে। মিথ্যে তথ্য সরবরাহ করে পত্র-পত্রিকায় নানা মুখরোচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি ঘনিষ্ঠ লোকজনকে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এমনই একটি তদন্ত পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. জয়নুল আবেদীন। গত ২ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি পদটি ঘিরে নানা ষড়যন্ত্রের আভাস দেন। এই তদন্তটি হয়েছে মূলত উল্টো। সিরাজ তার আপন বড় ভাইকে দিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে মিথ্যে তথ্য সরবরাহ করে প্রতিবেদন করান। এ নিয়েই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্তটি অনুষ্ঠিত হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা তার মতামতে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামকে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি দেওয়ার সুপারিশ করেন। মতামতে তিনি সিরাজুল ইসলাম ২২ বছর যাবত প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বরে স্বীকার করেন।

সিরাজকে দেওয়া প্রকল্প: সিরাজুল ইসলামকে যেসব প্রকল্পের পিডি নিয়োগ করা হয়েছে সেগুলো হলোÑ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার আরবান রিজিলেন্স প্রকল্প (মেয়াদকাল ২০১৫-২৩), প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট (ডিসিএনইউপি) মেয়াদকাল ২০০৯-২৪, ৮০০ কোটি টাকার নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্প (কেইস) মেয়াদকাল ২০০৯-১৪ এবং ইন্টিগ্রেটেড মাস্টার প্ল্যান ফর ঢাকা (২০২০-২৩)।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম নগর পরিকল্পনা বিভাগকে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেন। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মো. সিরাজুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কেন ২১ বছর ধরে আমাকে একই পদে রাখা হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষই ভালো জানেন’। সিরাজুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, যতই তদন্ত হোক তার কোনো ভয় নেই, কারণ তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সিটিপি পদে আছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!