× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০১:৫১ এএম

পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন-ক্ষোভ

ছিনতাইয়ের নগরীতে পরিণত সিলেট

সালমান ফরিদ, সিলেট

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০১:৫১ এএম

ছিনতাইয়ের নগরীতে পরিণত সিলেট

দিনেদুপুরে শিশুর গলায় ছুরি ধরে বাবার কাছ থেকে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যায় পাড়ার গলিতে হামলে পড়ে লুটে নেওয়া হচ্ছে সঙ্গে থাকা সব কিছু। ভোরে দূরপাল্লার বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ধরছে ছিনতাইকারীরা, অথবা পিছু নিচ্ছে যাত্রীদের। সুবিধাজনক জায়গায় গিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তির ওপর চড়াও হচ্ছে তারা। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্য সিলেটে নিত্যনৈমিত্যিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুদিনে এমন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন অন্তত চারজন। তাদের মধ্যে দুজন সাংবাদিক। তবে ঘটনা যা ঘটছে তার অল্পই প্রকাশ হচ্ছে। এক কথায় সিলেট যেন পরিণত হয়েছে ছিনতাইয়ের নগরীতে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটক ও প্রবাসীদের সিলেটবিমুখ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিলেট শহরে আশঙ্কাজনকভাবে ছিনতাই বাড়লেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, পুলিশের ভূমিকা যেন নীরব দর্শকের। নিকট অতীতে এমন ঘটনার পর যেসব কর্মকর্তা অতিউৎসাহী তৎপরতা দেখিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সিলেটে ছিনতাইকারী চক্রের বিষয়ে যেসব কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা আছে বা যারা চৌকস ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের হয় নিষ্ক্রিয় রাখা হচ্ছে, না হয় অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য রাজনৈতিক চাপকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।

একাধিক সূত্রের দাবি, সিলেটে আশঙ্কাজনক হারে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেলেও দুষ্কৃতকারীদের আটকে বা দমনে সরকারি দল নীরব। এর কারণ ছিনতাইকারী চক্রের অনেকে রাজনৈতিক দলের পরিচয় বহন করেন। আটকের পর তাদের পরিচয় প্রকাশ হলে দল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। সূত্র বলছে, রাজনৈতিক দল ও পুলিশ চাইলে সিলেটে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরজুড়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সিলেটে ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় ফেসবুকে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র সমালোচনা করছে। এর জন্য তারা পুলিশ ও রাজনৈতিক দলকে দায়ী করছেন। একজন লিখেছেন, ‘যখন সিলেটের কোনো পাড়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, তখন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যস্ত কোনো এক পথশিশুর দায়িত্ব ধনকুবেরের হাতে হস্তান্তর করা নিয়ে! আর সরকারি দল ব্যস্ত মন্ত্রীর প্রটোকল দেওয়া আর তেলের সংকটে প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ীদের ওপর খবরদারি করতে! তারা আন্তরিকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে সিলেটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।’

এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ দিদারুল আলম নোবেল বলেন, ‘আমাদের সাবেক দুই সহকর্মী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। এর আগে আরেক ঘনিষ্ঠজনের শোরুমে চুরি হয়েছে। এসব ঘটনা সিলেট নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বড় প্রমাণ। পরিস্থিতির উন্নতিতে নজর দিতে হবে। পুলিশের হালের ‘সাঁড়াশি’ অভিযান কাজে আসছে না। তালিকা করে ছিনতাইকারীদের ধরতে হবে। অপরাধীদের শেল্টারদাতাদের চিহ্নিত করতে হবে। নগরবাসী ও সিলেটে আসা পর্যটকদের নিশ্চিন্ত-নির্বিঘœ বসবাসের এবং ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে না পারলে শহরের শৃঙ্খলা একেবারে ভেঙে পড়বে।’

তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) জানায়, তারা শহরের নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। ধারাবাহিক অভিযান চলছে। এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো জানার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তথ্য অনুসারে, গত কয়েকদিনে সিলেটে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর পবিত্র রমজান শুরুর পরপরই সিলেটে আশঙ্কাজনক হারে ছিনতাই বেড়ে যায়, যার ধারাবাহিকতা এখনো রয়েছে। অভিযোগ ওঠে, এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আলোচনায় আসে সরকারি দল বিএনপির নাম। তবে বিএনপি এসব অপকর্মের সঙ্গে তাদের কোনো কর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভোর থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাইকারীরা ওঁৎপেতে থাকে। তারা ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয়।

সিলেটে সবচেয়ে বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। যাত্রীবেশে সংঘবদ্ধ দলের সদস্যরা অটোরিকশায় উঠে খানিকটা দূরে আসার পরে ছুরি বা অন্য অস্ত্র দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বস্ব লুটে নেয়। এসব ঘটনার অধিকাংশের সঙ্গে অটোরিকশাচালকও জড়িত। অটোরিকশা দিয়ে ছিনতাইয়ের বেশির ভাগই নম্বরবিহীন গাড়ি দিয়ে ঘটানো হয়। জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের গা-ছাড়া ভাবের কারণে সিলেট নগরী এখন নম্বরপ্লেটহীন এবং চোরাই অটোরিকশায় সয়লাব। রাতে সিলেট হয়ে ওঠে নম্বরবিহীন অটোরিকশার নগরী।

ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে মোটরসাইকেলও। গত ৩১ মার্চ রাতে কোতোয়ালি থানার তালতলা পয়েন্ট সংলগ্ন জামতলা গলির মুখে একাধিক মোটরসাইকেল দিয়ে এক পথচারীর গতিরোধ করে তার মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ওই লোককে কুপিয়ে আহতও করা হয়। তবে এ ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে। এটি মারামারি, ছিনতাই নয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় দুর্জয় অধিকারী (২২) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন। দুই পক্ষের সাত-আটজনের মধ্যে মারামারি দেখে তিনি ‘ছিনতাই’ বলে চিৎকার করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে একপক্ষ তাকে প্রতিপক্ষ ভেবে ধাওয়া করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

গত ৪ এপ্রিল দূরপাল্লার বাসে করে হুমায়ুন রশিদ স্কয়ারে এসে নামা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী যাত্রী ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ সময় তার ব্যাগ নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ব্যাগে প্রায় ১৮ হাজার টাকা ছিল।

ওইদিন ভোরে শহরতলির টুকের বাজার এবং বিকেলে নগরীর আম্বরখানা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন সাংবাদিক রায়হান উদ্দিন ও অহী আলম রেজা। রায়হান উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, ভোরে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাস থেকে টুকের বাজার তেমুখীর ব্রিজ এলাকায় নামার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশায় আসা তিন দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন। রায়হান উদ্দিন সিলেটের দৈনিক যুগভেরীর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। অন্যদিকে বিকেল ৩টার দিকে আম্বরখানা এলাকায় আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। প্রভাষক অহী আলম রেজা জানান, তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। পথে দুই যাত্রী তার সন্তানের দিকে ছুরি ধরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তিনি জানান, নির্ধারিত গন্তব্য শাহী ঈদগাহে না গিয়ে কিছু দূরে নামিয়ে দিয়ে চালক দ্রুত পালিয়ে যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা অহী আলম রেজা বর্তমানে বালাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

একই দিনে দুই সাংবাদিকের ছিনতাইয়ের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় এসএমপি এয়ারপোর্ট থানা ও জালালাবাদ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান দুই সাংবাদিক।

সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর কদমতলী বাস টার্মিনাল, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, চ-ীপুল, উপশহর পয়েন্ট ও প্রধান সড়ক, হাউজিং এস্টেট, সাগরদিঘিরপাড়, তালতলা, মদিনা মার্কেট, কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল, টিলাগড়, শাহী ঈদগাহ, আম্বরখানা, এয়ারপোর্ট রোড ছিনতাইয়ের হট স্পটে পরিণত হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!