চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও মাদকের নেপথ্যে হোতা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার কথা জানিয়ে ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৫২ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অঙ্গীকার। গতকাল রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার আরও বলেন, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারের পর যারা তাদের ছাড়াতে থানায় তদবির করতে আসবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজ যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাঁদবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যারা আমাদের অভিযানের আগে চাঁদাবাজদের খবর দিয়ে দেয় তাদের বিরুদ্ধেও আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, অপরাধ চক্রের মূল উৎপাটন করে নাগরিক জীবনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকা মহানগরকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান এবং আকস্মিক ব্লক রেড পরিচালনা, ক্ষেত্রবিশেষে চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন আসামিদের তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই কওে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা বড় অপরাধী তাদের নরমাল প্রসিডিউর অনুযায়ী মামলা করে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও, ডিবি, সিসিটিসির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া প্রতারণা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল-কেন্দ্রিক ব্যবসা এবং চিহ্নিত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিসিটিসি টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং ৯৪ জন সহযোগী চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন মামলায় বা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, চাঁদাবাজদের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। যেগুলোর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলার আলামত হিসেবে কোর্টে প্রডিউস করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন