রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে তিন ছাত্রীর বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে হঠাৎ উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। এ সময় হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন নারী শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসের মূল ফটকের তালা ভেঙে অবস্থান নেন একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্রী। মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ বিক্ষোভে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘হল কারো বাপের না, ছাত্ররাজনীতি চলবে না’ এবং ‘প্রশাসনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস এলাকা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ও সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রদলের হল কমিটি নিয়ে প্রতিবাদের জেরেই ওই তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই হল থেকে তাদের সিট বাতিল করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩ মে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ওই কমিটি প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের অভিযোগ, সিট বাতিলের নোটিশে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন এবং তদন্ত কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। এমনকি নির্ধারিত সময়ে কমিটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার কথা থাকলেও কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ছাত্রী হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা না গেলে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হল থেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন