কানাডার অন্টারিও প্রদেশের স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে লিবারেল পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশি-কানাডীয় ব্যবসায়ী আহসানুল হাফিজের প্রার্থিতা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও কানাডীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত এই বিতর্কের মূলে রয়েছে বলে জানা গেছে। কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, হাফিজ অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুদ- কার্যকর করাকে সমর্থন ও উদযাপন করেছেন। বিশেষ করে দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়কে সমর্থন জানিয়ে দেওয়া তার কিছু পোস্টের স্ক্রিনশট বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
টরন্টোভিত্তিক একজন আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, কানাডা আন্তর্জাতিকভাবে মৃত্যুদ- বিলোপের পক্ষে কাজ করে এবং ‘সেকেন্ড অপশনাল প্রটোকল টু দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এ স্বাক্ষরকারী দেশ। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসি দেওয়ার পক্ষপাতী কেউ কীভাবে লিবারেল পার্টির মতো মানবাধিকার ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী দলের ব্যানারে নির্বাচন করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
আহসানুল হাফিজের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে এবং জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে বলে খুলনায় তার প্রতিবেশীরা জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্য করার পাশাপাশি বিরোধীদের ‘পাকিস্তানি’ হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই আসনে হাফিজের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইটি কেবল স্থানীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জানা গেছে, দলটির একটি ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠী হাফিজকে সমর্থন দিচ্ছে, যা মূলত সাবেক মন্ত্রী নাথানিয়াল এরস্কিন স্মিথের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ। নাথানিয়াল এরস্কিন স্মিথ কানাডার রাজনীতিতে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের জন্য পরিচিত হওয়ায় এই মনোনয়ন লড়াই এখন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে।
এসব বিতর্ক ও অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে আহসানুল হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের এই লড়াই এখন প্রবাসী রাজনীতি ও লিবারেল পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, হাফিজ ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় যান, উইন্ডসর ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন এবং পরে অন্টারিওর লন্ডন শহরে ব্যাবসায়িক ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। আহসানুল হাফিজের পিতা কমরেড হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া খুলনার রাজনৈতিক মহলে একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি বাংলাদেশে চীনপন্থি কমিউনিস্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন