মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আগে প্রশাসন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখন তা বিএনপির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা করা হতো, এখন জাতীয়তাবাদী স্লোগান তুলে হামলা করা হচ্ছে। ‘জয় বাংলা থেকে জাতীয়তাবাদÑ শুধু স্লোগান বদলেছে, সংস্কৃতির বদল হয়নি,’ মন্তব্য করেন তিনি।
দেশব্যাপী অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও জননিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে রাজধানীতে প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
মজিবুর রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ বাড়ছে। ‘কথা ছিল নির্বাচন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর সরকার কার্যত অনুপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের সংঘাত হয়নি; বরং শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছিলেন। ‘আমরা নির্বাচন চেয়েছিলাম, তবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পরিবেশে পৌঁছানোর পর নির্বাচন হোকÑ এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা, যোগ করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ৩১ দফার কথা বলে বিএনপি আবার পুরোনো বন্দোবস্তেই ফিরে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শুধু বিএনপিরই প্রায় ছয় হাজার নেতাকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। এরপরও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি; বরং বেড়েছে। তিনি বলেন, তিন মাসে সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ করেছে এবং হামে ইতোমধ্যে ৪০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঞ্জু অভিযোগ করেন, বাজার, থানা ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নীরবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে। ‘কারা পুলিশে দুর্নীতি করছে, কারা সচিবালয়ে পোস্টিং বাণিজ্য করেছেÑ সব তথ্য আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ করব এবং দুর্নীতির শে^তপত্র প্রকাশ করব,’ বলেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হয়রানি ও নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দেশবাসী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ দেখতে চায়। তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন