× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn
প্রযোজক-পরিচালকের দ্বন্দ্ব

কাঠগড়ায় ‘বনলতা সেন’

আনন্দ আড্ডা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

কাঠগড়ায় ‘বনলতা সেন’

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কিংবদন্তি চরিত্র বনলতা সেনকে চলচ্চিত্রের পর্দায় নিয়ে আসছেন নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। ‘বনলতা সেন’ সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষে মুক্তির প্রস্তুতি চলছে। জীবনানন্দের কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মৌলিক গল্পের এই সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন পরিচালক নিজেই।

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে সিনেমাটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অংক ৭০ লাখ টাকা প্রযোজক-পরিচালক হিসেবে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল অনুদান পেয়েছেন। অনুদানের টাকায় পুরো সিনেমা শেষ না করতে পারায় সহ-প্রযোজক হিসেবে তরুণ মজুমদার ‘বনলতা সেন’ সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হন। বেশ কয়েকবার সিনেমাটির মুক্তির কথা শোনা গেলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। শোনা যাচ্ছে আসছে ঈদে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। গতকাল প্রচারণার অংশ হিসেবে সিনেমাটির পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে।

এরই মধ্যে জানা গেছে, সিনেমাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে সহ-প্রযোজক ও পরিচালকের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে মামলায়। পরিচালকের নামে মামলা করেছেন সহ-প্রযোজক তরুণ কান্তি। পরিচালক জামিনে আছেন। শোবিজেও বিষয়টি নিয়ে চলছে কানাঘুষা। মামলার এখনো হয়নি সুরাহা।

প্রযোজকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর সিনেমাটির সঙ্গে সহ-প্রযোজক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন তরুণ কান্তি মজুমদার। এরপর মোট ৬১ লাখ টাকা প্রদান করেন। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পরিচালক উজ্জ্বল ইন্ডিয়াতে সিনেমাটির শুটিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের কোনো কাজই করেন নাই। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর সহ-প্রযোজকের কাছে আরও টাকা দাবি করলে সিনেমাটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি, ব্যয় এবং সরকারি অনুদান প্রাপ্তির পরিমাণ ও তার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ জানতে চাইলে পরিচালক ক্ষিপ্ত হন এবং কোনো প্রকার হিসাব প্রদান করবেন না সাফ জানিয়ে দেন। যদিও রেড আক্টোবর ও মেট্রো ফিল্মের মধ্যে মালিকানা ফিফটি ফিফটি চুক্তিতে রয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। সি.আর মামলা নং-৩৩৬/২৫। পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আপোষের শর্তে গত ১২ এপ্রিল পরিচালক উজ্জ্বল ৫০০ টাকার বন্ডে জিম্মায় জামিন পেয়েছেন। পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, এ নিয়ে বিস্তারিত পরে কথা বলবেন। যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসছে। সিনেমা মুক্তিরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিচালক। কিন্তু এখনো এই দ্বন্দ্বের সুরাহা হয়নি।

সম্প্রতি ‘বনলতা সেন’ মুক্তির জন্য সেন্সরে জমা পড়েছে। তবে তাদের দ্বন্দ্বের ব্যাপারে অবগত হয়েছে বোর্ড। বিষয়টি নিয়ে তারা বিব্রত বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, আপাতত সিনেমাটি সেন্সর পাচ্ছে না। দ্বন্দ্বের অবসান হলেই মিলবে ছাড়পত্র! আরও জানা গেছে, প্রযোজকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেমাটি এখনো সেন্সরের গ-ি পার হয়নি। সেন্সর বোর্ডও এ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করতে চান না। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. মঈনউদ্দীন রূপালী বাংলাদেশকে সাফ জানিয়ে দেন বোর্ড চেয়ারম্যানের নির্দেশ এই সিনেমা নিয়ে আপাতত কিছু বলা যাবে না। এ নিয়ে তিনি তথ্য দিতে অনাগ্রহ জানান। তবে একটি সূত্র বলছে, সিনেমাটি সেন্সর পেয়েছে তবে পরিচালক তা সামনে আনছেন না আপাতত।

সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক ভোগান্তি হয়েছে জানিয়ে একটি গণমাধ্যমকে পরিচালক উজ্জ্বল বলেছেন, ‘এই সিনেমাটা নির্মাণ করতে গিয়ে যারপরনাই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন সিনেমাটা সফলভাবে দর্শকের কাছে নিয়ে আসাই বড় বিষয়। এ রকম যন্ত্রণা গোটা জীবনেও পাইনি।’ তিনি জানিয়েছেন এসব নিয়ে বিস্তারিত বলবেন কোনো সময়।

প্রশ্ন রেখে সিনেমাটির সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদার বলেন, ‘সর্বশেষ শুনানিতে খরচের হিসাব আর সিনেমাটা জমা দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু খরচের হিসাবে অনেক গরমিল করেছে, সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। এ ছাড়া সিনেমাটাও তো সম্পূর্ণ করেনি। কোনোমতে ফুটেজ জোড়াতালি দিয়ে জমা দিয়েছে। খরচের একটা উদাহরণ দিই, লাইটের বিল দেখিয়েছে ১৮ লাখ টাকা! বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সিনেমাতে এত টাকার লাইট বিল হয়েছে বলে জানা নেই। আমি ওই লাইট হাউসেও যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে এটা সত্য নয়। এ ছাড়া প্রডাকশন খরচেও অনেক নয়ছয় করেছে। হিসাব করে দেখলাম, প্রায় ৬০ লাখ টাকার ভুয়া হিসাব দেখিয়েছে। এখন কৌশলে সেন্সরে জমা দিয়ে সিনেমাটা মুক্তি দিতে চাইছে। যাতে ঝামেলাটা থেকে সরে যেতে পারে। এখানেও সে অসততা করেছে। সেন্সরের আবেদনে আমার নামটুকু পর্যন্ত রাখেনি। অথচ আইনত চুক্তি অনুযায়ী আমি সিনেমার ৫০ শতাংশের মালিক। সহ-প্রযোজক হিসেবে আমার নাম থাকবে না? এরই মধ্যে সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি। যতদূর জানি, এখনো সিনেমাটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তবে অনেক তদবির করছেন বলে জেনেছি। সিনেমা মুক্তি দেবে, ঠিক আছে। কিন্তু তার আগে তো কাজটা সম্পূর্ণ করতে হবে। আর চুক্তিতে যেভাবে লেখা আছে, সেসব মেনেই তো মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে আমার টাকাটা ফেরত দিয়ে দিক। এরপর নিজের ইচ্ছামতো সিনেমা মুক্তি দিক। দু-চার লাখ না, ৬১ লাখ টাকা দিয়েছি। এই টাকা তিন বছর ধরে আটকে আছে। এখন সিনেমা মুক্তি দিতে চাচ্ছে, অথচ আমাকে একপ্রকার বাদ দিয়েই! লিগ্যাল পেপারে চুক্তি করার পরও এই অবস্থা, আর যদি চুক্তিপত্র না করতাম, তাহলে তো মনে হয় আমার টাকার কথাও স্বীকার করত না।’

সিনেমায় জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। জীবনানন্দ দাশের চরিত্রটি নিয়ে খায়রুল বাসার বলেছেন, এমন একটি চরিত্রে কাজ করা তার জন্য ‘সৌভাগ্যের এবং চ্যালেঞ্জিংও’। সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা, সোহেল ম-ল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রুপন্তী আকীদ, শরিফ সিরাজ, সুমাইয়া খুশি প্রমুখ। আসন্ন কোরবানির ঈদে ‘বনলতা সেন’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!