মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকারের কর ও ফি বাবদ নিয়ে নেয়। বাকি ৪৪ টাকায় কথা বলতে পারেন গ্রাহক। অতীতের জনবিচ্ছিন্ন সরকারগুলোর মতো শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, টেলিযোগাযোগ খাতকে সেবা খাত হিসেবে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিক্যাব)।
বিশ^ টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রোববার এ আহ্বান জানান টিক্যাব সভাপতি মুর্শিদুল হক (বিদ্যুৎ)। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেবার মান উন্নয়ন করেন। শুধু রাজস্ব আদায় নয়, মুঠোফোন সেবার মানোন্নয়নেও দৃষ্টি দেন।
বিবৃতিতে টিক্যাব সভাপতি বলেন, মুঠোফোন বা মোবাইল ফোন এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও কথা না বলে থাকার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে ব্যক্তিগত পর্যায় সবখানেই মুঠোফোনের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো পাল্লা দিয়ে ইন্টারনেট ও টকটাইম প্যাকেজের দাম বাড়িয়ে চলায় গ্রাহকরা মুঠোফোন প্যাকেজের খরচ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
৫ সদস্যের একটি পরিবার কমপক্ষে ৪-৫টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই মোবাইল ফোনগুলোর ব্যয়ভার নির্বাহ করছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি। বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, সবজি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি পেলে যেমন তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন মুঠোফোন ব্যবহারের ব্যয় বাড়ায় তিনি একইভাবে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে রক্ত-ঘামে উপার্জিত প্রতিটি টাকা তাদের অত্যন্ত হিসাব কষে ব্যয় করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, মুঠোফোন সেবা থেকে মোবাইল অপারেটরগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে যে আয় করে তার ১০০ টাকার মধ্যে ৫৬ টাকাই সরকার কর ও ফি বাবদ নিয়ে নেয়। অতীতের সরকারগুলো টেলিযোগাযোগকে নির্বিঘেœ রাজস্ব আয়ের একটি বড় খাতে পরিণত করেছে। বিগত দুই দশকের জনবিচ্ছিন্ন সরকারগুলোও মুঠোফোন সেবার দাম কমানো এবং মানোন্নয়নে জোর না দিয়ে রাজস্ব আদায়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। সরকারকে সেবার দিকেও খেয়াল রাখার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

