পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা চলাকালে বেআইনিভাবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন এবং বহিরাগত পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে বেআইনিভাবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয় প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া, গত ২৮ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে প্রবেশপত্র ও সঠিক পরীক্ষার্থী যাচাই না করে এক বহিরাগতকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীর বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি পত্রে অভিযুক্তদের আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং পরিচালনা পর্ষদের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তফা জুবায়ের হায়দার জানান, পরিচালনা পর্ষদ থেকে ওই দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। এর সত্যতা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে একটি গুজব উঠেছিল। আমরা বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি। তার অনুমতি ছাড়া আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।
এদিকে অপর অভিযুক্ত শিক্ষক শ্রী দীনেশ চন্দ্র ঘরামীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. জহিরুল আলম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন