খুলনার দাকোপ উপজেলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরে র্যাবের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় র্যাবের হেফাজত থেকে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে চালনা আছাবুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোণা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধসংলগ্ন প্রায় ৪০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল্লাহ ফকির ও বাচ্চু ফকির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
আহতরা হলেনÑ জসিম মোল্যা (৩২), হাফিজুর মোল্যা (৪০), আবু মুসা শেখ (৩১), জাফর সরদার (৩১) ও সাজ্জাদ হোসেন সরদার (৫৪)। আহতদের দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর শনিবার সকালে র্যাব-৬ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মুকুন্দ ম-ল ও রসুল গাজীকে আটক করে। আটকদের নিয়ে যাওয়ার পথে চালনা এলাকায় উত্তেজিত জনতা র্যাবের গাড়ি ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর দুপুরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান খান ও চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফর হোসেন দাবি করেন, বিতর্কিত জমিটি ভূমিহীনদের দখলে ছিল। র্যাব মিছিল থেকে লোকজনকে আটক করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তারা জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
দাকোপ থানার ওসি খায়রুল বাশার জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনিসুজ্জামান জানান, র্যাব এই অভিযানে স্থানীয় থানা পুলিশকে না জানিয়ে এবং পুলিশের কোনো সহযোগিতা না নিয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন থেকে দুইজনকে আটক করলে এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, দাকোপ থানার ওসি শেখ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলের জনরোষ থেকে র্যাব সদস্যদের নিরাপদে থানায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের নিয়ে থানায় একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এদিকে স্থানীয়রা বিকেল থেকে প্রতিবাদ করে যে, আওয়ামী লীগ নেতার মিথ্যা মামলায় র্যাব অতিউৎসাহী হয়ে মানববন্ধন থেকে তাদের দুজনকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে থানায় একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

