× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

সিলেটে র‌্যাব সদস্য খুন

পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর, হত্যা মামলা দায়ের

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর,  হত্যা মামলা দায়ের

সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত র‌্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্যের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

এ ঘটনায় নিহত ইমন আচার্যের ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামি সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন কাজিরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আসাদুল আলম বাপ্পি (২২)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. মনজুরুল আলম।

এদিকে সিলেট নগরীর ক্বিনব্রিজ ও তোপখানা এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খাওয়া এক মাদকাসক্ত ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৯) কনস্টেবল ইমন আচার্য্য নিহতের ঘটনায় মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) নগরজুড়ে নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ক্বিনব্রিজ এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল হক বাপ্পী তোপখানা রোডের বন বিভাগের গেটের দিকে দৌড়ে পালাতে থাকে। ওই সময় ব্যক্তিগত কাজে সাধারণ পোশাকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য্য। পুলিশকে ধাওয়া করতে দেখে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে বাপ্পীকে জাপটে ধরেন। এ সময় নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে বাপ্পী তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাঁ পাশে উপর্যুপরি আঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালানোর সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানা এলাকার একটি আবাসিক বাসায় ঢুকে এক শিশুকে জিম্মি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়। তবে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অত্যন্ত নিখুঁত ও কৌশলী অভিযান চালিয়ে রক্তাক্ত ছুরিসহ ঘাতক বাপ্পীকে ঘটনাস্থলের অদূরেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসাদুল হক বাপ্পী নগরের কাজিরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাই ও মাদকের মামলা রয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ের পর সিলেট নগরীকে অপরাধীমুক্ত করতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে এসএমপি। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসএমপির ৬টি থানা, ডিবি পুলিশ এবং বিভিন্ন ফাঁড়ি একযোগে অভিযান পরিচালনা করে।

এসএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে সর্বমোট ২৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিনতাই, মাদক, জুয়া এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অপরাধী, বিভিন্ন নিয়মিত মামলার আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি, নগরীর বিভিন্ন মোড় থেকে আটক হওয়া চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে।

র‌্যাব সদস্য ইমনের আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ক্বিনব্রিজ, তোপখানা, কদমতলী ও বন্দরবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান চলমান থাকবে এবং র‌্যাব সদস্য হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!