ভোলায় মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর সোয়া ২টায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন এবং তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা শেষে তার লাশ ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়, এখানে তার বাবা ও স্ত্রীর কবর রয়েছে। আজীবন ‘মা পাগল’ হিসেবে পরিচিত তোফায়েল আহমেদের শেষ ঠিকানা হলো ঠিক মায়ের কবরের পাশেই, কারণ জীবদ্দশায় এই দাফনের স্থানটি তিনি নিজেই নিজের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছিলেন।
এর আগে রাজধানী থেকে হেলিকপ্টারে করে তার লাশ ভোলায় আনা হয়। ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশে এমপি ও মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। তার মৃত্যুতে ভোলাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
৯ বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার গ্রামের বাড়িতে শোকের আবহ তৈরি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
ছাত্রদল ও যুবদলের বিক্ষোভ : তোফায়েল আহমেদের জানাজার আগে ভোলায় বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল ও যুবদলের একদল নেতাকর্মী। বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জানাজাস্থল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তারা তোফায়েল আহমেদকে ছাত্রদল নেতা নুরে আলম ও যুবদলের রহিমের হত্যাকারী দাবি করে বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা না পড়ানোর দাবি জানান। পরে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এসে তাদের সরিয়ে নেয়।
ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘বিএনপি সহানুভূতিশীল এবং মানবিক দল। এ কারণে তোফায়েল আহমেদের জানাজা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যবস্থা করেছে জেলা ছাত্রদল। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের মধ্যে সেই মানবিকতা মোটেই ছিল না। তারা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুর আলমের জানাজা পড়তে দেয়নি।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন