ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বললেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ জাতীয় উন্নয়ন

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের অর্থ জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণের পেছনেই বিনিয়োগ। একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, পারমাণবিক শক্তি এক অনন্য দায়িত্বও নিয়ে আসে। একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য কেবল প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সর্বোপরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষার একটি সুদৃঢ় সংস্কৃতি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে পাবনার ঈশ^রদীতে স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সভাকক্ষে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং জাতীয় অগ্রগতি নিয়ে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি (ফুয়েল) লোড করার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি যুগান্তকারী জাতীয় মুহূর্ত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের সেই সব উন্নত ও পরিশীলিত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশগুলোর কাতারে শামিল হলো, যারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি সফলভাবে ব্যবহার করছে। এই অর্জন আমাদের নীতি-নির্ধারক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কয়েক দশকের দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং নিষ্ঠারই প্রতিফলন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত পাঁচ দশকে আমাদের দেশ এক বিশাল চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে রূপান্তরিত হয়ে বিশে^র অন্যতম গতিশীল ও স্থিতিস্থাপক অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে আমরা অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তি ২৪ ঘণ্টা বড় পরিসরে নির্ভরযোগ্য ও কম-কার্বনযুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে। অন্যান্য অনেক জ্বালানি উৎসের মতো এটি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে, শিল্প খাতের বিকাশ ঘটায় এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বে অবদান রাখে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুরোদমে চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আমাদের জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করবে। এটি আমাদের জ্বালানির মিশ্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং আমাদের অর্থনীতির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে, পারমাণবিক প্রযুক্তির মূল্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায়, উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিতে, উন্নত প্রয়োগের মাধ্যমে শিল্প খাতে, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পারমাণবিক বিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

আগস্টের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে এবং ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে ২য় ইউনিটের নিউক্লিয়ার ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জাতীয় গ্রিডে এখান থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখানে হওয়ায় এই এলাকার লোক ভাগ্যবান। এটি বড় শহর হবে, সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ঈশ^রদীবাসী।’